মতিঝিলে ক্যাসিনো সাঈদের সহযোগী মন্টুর ত্রাসের রাজত্ব

আবুল কাশেম মন্টু
আবুল কাশেম মন্টু - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ০৯:৩৮

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মতিঝিলে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে যুবলীগের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর একেএম মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে ক্যাসিনো সাঈদের অনুসারীরা। এদের মধ্যে অন্যতম মতিঝিল থানার ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল কাশেম মন্টু ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোলায়মান হোসেন রিন্টু।

ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ফকিরাপুল নিবাসী নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ডিবি পূর্বকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। মূলত থানার অসহযোগিতার কারণেই বাদী কোর্টে মামলা করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে থানা প্রশাসনের নির্বিকার ভ‚মিকায় ক্যাসিনো সাঈদের অনুসারী মন্টু বাহিনী দিনে দিনে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ক্যাসিনো সাঈদ বিদেশে পালিয়ে থাকলেও স্থানীয়ভাবে এই মন্টু বাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম শামীম। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই আমিনুল ইসলাম শামীম এর চাঁদাবাজি নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী ডটকম নামে একটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হলে আরামবাগ ফকিরাপুল এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শামীমের অন্যতম ক্যাডার মতিঝিল থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মামুন ওরফে টোকাই মামুন স্থানীয় সাংবাদিক দৈনিক আমাদের অর্থনীতির স্টাফ রিপোর্টার একেএম সীমান্তকে ফোন করে হুমকি-ধমকি দেন। হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক একেএম সীমান্ত মতিঝিল থানায় ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি জিডি দায়ের করেন।

শুধু তাই নয়, চাঁদা না দেয়ায় ১৫ মার্চ এই মন্টু বাহিনী স্থানীয় সাধারণ দোকান ব্যবসায়ী পবন চন্দ্র দাসকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। মন্টু বাহিনীর আঘাতের এক পর্যায়ে পবন চন্দ্র দাসের হাত ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পরপরই পবন চন্দ্র দাস মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়াসীর আরাফাত মামলা গ্রহণে গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক বিচারের আশ্বাস দিলে আহত পবন চন্দ্র দাস মামলা রুজু থেকে বিরত থাকে।

মতিঝিল থানাধীন এই ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ক্যাসিনো সাঈদের ডানহাত খ্যাত হাসান উদ্দিন জামাল। ১৭ ফেব্রুয়ারি হাসান উদ্দিন জামাল গোয়েন্দা জালে আটক হলেও এখন অবধি তাকে বহিষ্কার করা হয়নি। হাসান উদ্দিন জামালের অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল কাশেম মন্টু চাঁদাবাজির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশে ফকিরাপুল বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সোলায়মান হোসেন রিন্টুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়।

রিন্টু কিভাবে সভাপতি হলো জানতে চাইলে মন্টু এলাকাবাসী জানায় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা ভাই তাকে অনুমোদন দিয়েছে। অথচ এ বিষয়ে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 





ads







Loading...