টেন্ডারবাজ ও বিতর্কিতরা যুবলীগে আসতে মরিয়া

টেন্ডারবাজ ও বিতর্কিতরা যুবলীগে আসতে মরিয়া - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৪৫

শিগগিরই কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বিতর্কিত টেন্ডারবাজরাও কমিটিতে আসতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাদের কমিটিতে না রাখতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তৃণমূল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

 জানা গেছে, আগামী ২১ ফেব্র্রুয়ারির মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সকল সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নিদের্শনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পদপ্রত্যাশীরা জোড় তদবির চালাচ্ছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আসতে মরিয়া হয়ে উঠছেন যুবলীগের সাবেক কমিটির  ‘বিতর্কিত, টেন্ডারবাজ, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত, ছাত্রলীগ নেতার হত্যা মামলার আসামি’সহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা।

তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অফিস ও বাসার গিয়ে জোড় তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে সংগঠনের দফতরে একটি আবেদন পড়েছে, ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাদল হত্যা মামলার আসামিসহ ‘টেন্ডারবাজ ও বিতর্কিত’দের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করতে। 

দলীয় সূত্র জানায়, সরকারি সফরে ইতালি যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১  ফেব্র্রুয়ারির মধ্যে সহযোগী সংগঠনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা ও মহানগর উত্তর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পাশাপাশি ঢাকা মহানগরে সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দলের প্রধান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে দলের সভাপতির সেই নিদের্শনা সহযোগী সংগঠনের নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন। সহযোগী সংগঠনের নেতারা দলকে সাংগঠকিভাবে গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ক্যাসিনো কারবারে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত হয় যুবলীগ। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতারা। সংগঠনটিকে পরিচ্ছন্ন করে আগের জায়গায় নিয়ে যেতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান পদে রাখা হয়েছে।

স্বভাবতই তিনি বাবার আদর্শের সংগঠনটিতে বিতর্কিত কাউকে জায়গা দেবেন না। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে যুবলীগ। আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। সম্রাট ও আরমানসহ বেশ কয়েক নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়। সে সময়ের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এদিকে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে হত্যা মামলার আসামিসহ টেন্ডারবাজ ও বিতর্কিতদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করতে তৃণমূল থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। সেই সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাদলকে ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি যুবলীগের গত কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের নেতাও ছিলেন।

 দোহার নবাবগঞ্জের তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নাজমুল হুদা, বিমান প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানের উপস্থিতিতে ১৯৯৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর দল পরিবর্তন করে ১৯৯৭ সালে আবারো আওয়ামী লীগে আসেন। বাদল হত্যার চার্জশিটভুক্ত আসামিসহ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যুবলীগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বাসা ও অফিসে ভিড়ছেন বিভিন্ন অপকর্মকারীরা। এছাড়া চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নেতারাও যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেতে জোড় তদবির চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনকে বার বার ফোন দিলে তিনি কল ধরেননি। 

বাংলাদেশে আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের দফতরে অনেক সিভি পড়েছে। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের পর তা দেখা শুরু হয়েছে। আমাদের একটু সময় লাগবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের নেত্রীর কথা পরিষ্কার, আমরা সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, সুন্দর বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার জন্য, একটি সুন্দর বসবাস চাই। আমরা সর্ব ক্ষেত্রেই এই বিষয়গুলো মাথা রেখে কাজ করছি। যারা সত্যিকার অর্থে বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত, যারা প্রমাণিত, সেই বিষয়গুলো প্রমাণ সাপেক্ষে তো আমাদের হাত দিয়ে দুর্বল নেতৃত্ব তৈরি হবে না। চলতি মাসেই আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য চেষ্টা করছি। দেখা যাক, কতটুকু করতে পারি।  

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ





ads






Loading...