রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধ প্রকল্পে সুফল আসেনি

রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধ প্রকল্পে সুফল আসেনি
রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধ প্রকল্পে সুফল আসেনি - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫৭,  আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫৯

রাজধানীর বায়ুদূষণ কমাতে ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেস)’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। ৮০২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার বায়ুদূষণ কমিয়ে আনা। কিন্তু প্রকল্পটির অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫১ শতাংশ) টাকা নন মেটিরিয়ালস খাতে ব্যয় করায় উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

একইসঙ্গে রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধের পরিবর্তে বায়ুদূষণ আরো বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বৈঠকে। এভাবে কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের অর্থ বিফলে যাওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করে এর ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পের ৫০ শতাংশের অধিক ব্যয় হয়েছে নন মেটেরিয়ালস খাতে। যে কারণে পরিবেশ উন্নয়নে সরাসরি কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। এই প্রকল্পের মূল্য উদ্দেশ্য ছিল বায়ুদূষণ কমানো। সেখানে দূষণ না কমে বরং বৃদ্ধি পেয়েছে এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, খরচ আইএমইডি’র অনুমোদন অনুযায়ী হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকও তদারকি করছে।

সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় আর ২০১০ সালে মার্চ মাসে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন লাভ করে। চলতি বছরের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের সুফল মানুষ পেয়েছে কিনা সম্প্রতি এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছিল বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর জবাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কমিটিকে জানিয়েছেন, সফলভাবে প্রকল্প শেষ হয়েছে। তবে তাদের কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পায়নি সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটির কার্যপত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেস প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেস প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি প্রকল্পে যে সব কম্পোনেন্ট ছিল সব কম্পোনেন্ট বিশ্বব্যাংক এবং আইএমইডি’র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কোয়ালিটি নিশ্চিত করে বাস্তবায়ন হয়েছে। তাদের এই জবাবে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সিটি কর্পোরেশনের মূল উদ্দেশ্য জানতে চাইলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশনের মূল কম্পোনেন্ট ছিল মানুষের চলাচলের পথকে সুগম করা, বায়ুদূষণ কমানো এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ সড়ক পারাপার।

বৈঠকে কমিটি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রকল্পের পরিবেশ কম্পোনেন্টে ব্যয়ের চিত্র জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে মেশিনারিজ খাতে, আর ৭৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে অন্যান্য খাতে। এই অন্যান্য খাতের মধ্যে আবার ২৬ শতাংশ পরিবেশ অধিদফতরের নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...