৪৬ কোটি টাকার ভবনে থাকতে নারাজ নোবিপ্রবির কর্মকর্তারা


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৩৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় নির্মিত শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার ভবনে থাকতে আগ্রহী নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে সাড়ে ১৩ কোটি টাকায় নির্মিত হাউজ টিউটর প্রভোস্ট কোয়ার্টার ভবন হস্তান্তরের ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

দুটি ভবনের একটি হচ্ছে, শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যটি হচ্ছে, হাউজ টিউটর প্রভোস্ট কোয়ার্টার, যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সহকারি প্রভোস্ট, প্রক্টর ও সহকারি প্রক্টরদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে কাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালের শেষের দিকে কাজ সম্পন্ন হয়। কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার একবছর পেরিয়ে গেলেও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়বহুল নির্মিত এই ভবন।

সাড়ে ৩৩ কোটিরও বেশি টাকায় নির্মিত শিক্ষক ও কর্মকর্তা ভবনটির প্রতি ফ্লোরে ৮টি করে মোট ৭২টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এদিকে সাড়ে ১৩ কোটি টাকায় নির্মিত হাউজ টিউটর ও প্রভোস্ট কোয়ার্টার ভবনের প্রতি ফ্লোরে ৩টি করে ২৭টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ৭২ ফ্ল্যাট বিশিষ্ট শিক্ষক কর্মকর্তা কমিটির ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য দুই দফায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত আবেদন করেছেন ১৩ জন। অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রভোস্ট কোয়ার্টার বরাদ্দের বিষয়ে নেই কোনো অগ্রগতি।

ফ্ল্যাট বরাদ্দের অনাগ্রহী হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ফ্ল্যাট ভাড়া বহন করা কষ্টকর হয়ে যাবে। এছাড়া এতটাকা ভাড়া দিয়ে প্লাটে অবস্থান করেও পাবো না অন্যান্য সুবিধা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা সু-ব্যবস্থা, স্কুল ও ডে-কেয়ার-এর সুবিধা না থাকায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিতে অধিকাংশ শিক্ষকরাই অনাগ্রহী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, যেখানে আমরা শহরে ১৭ বা ১৮ হাজার টাকায় সুন্দরভাবে বাসা নিয়ে থাকতে পারি, সেখানে এর চেয়েও বেশি টাকা দিয়ে শহর থেকে দূর অঞ্চলে এসে কোনো সুযোগ-সুবিধা ছাড়া ফ্ল্যাট নিয়ে থাকাটা আমাদের জন্য কষ্টকর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি ক্লাসরুমের সংখ্যা। যেখানে আমরা ক্লাসরুমের সংকটে ক্লাস করতে পারছি না, সেখানে এত ব্যয়বহুল নির্মিত দুটি ভবন এভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা আমাদের জন্য দুঃখজনক।

ফ্ল্যাট বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব নোবিপ্রবি স্ট্রেইট ও হাউজিং শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. গোলাপ হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছি। যে ১৩ জন শিক্ষক কর্মকর্তা আবেদন করেছেন তাদেরকে আগামী মাস থেকেই উঠার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে কেউ আবেদন করলে তাদেরকে উঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar