কুবিতে সুপেয় পানির সংকটে আবাসিক শিক্ষার্থীরা


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৭ আগস্ট ২০২২, ১৬:১০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াতে সুপেয় পানির সমস্যার সমাধান হলেও এখনো সংকট কাটেনি আবাসিক হলসমূহে। ফলে ওয়াশরুমের ট্যাপ ও ট্যাংক থেকে পানি সংগ্রহ করে খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

চিকিৎসকদের দাবি, বিশুদ্ধ পানির সংকটে ডায়রিয়া, টাইফয়েডের মতো বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। তাছাড়া চর্মরোগের অন্যতম কারণও বিশুদ্ধ পানির অভাব। শিক্ষার্থীরা সুপেয় পানি না পেলে তারা যেকোনো সময় এসব রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে দেখা যায়, পানির ট্যাংকগুলো বেশ পুরনো। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বিবর্ণ হয়ে পড়ছে এগুলোর ভিতরের অবস্থা। এছাড়াও হাত ধোঁয়ার বেসিন, ওয়াশরুমের ট্যাপ থেকে পানি নিয়ে খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ফিল্টার কিংবা গভীর নলকূপের ব্যবস্থা থাকলে ধোঁয়ামোছা ও গোসলখানার পানি পান করতে হতো না।

সুপেয় পানির সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু বিশুদ্ধ পানির সংকটই নয়। হলের চারপাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমেছে, একাধিক ওয়াশরুমের ট্যাপ নষ্ট, দরজা ভাঙ্গা, দরজার ছিটকিনি নেই, বেসিন ভাঙ্গা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সার্কিট। এছাড়াও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে।

একই অভিযোগ করছেন অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরাও। শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এনায়েত উল্লাহ বলেন, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এছাড়াও ওয়াশরুমগুলোর অবস্থাও ভাল না। বাথরুমের পাশের রুমগুলোতে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। ফলে আমাদের এখানে থাকা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, হলের বিভিন্ন ফ্লোরে বেসিন, টয়লেট, ফ্ল্যাশ ও বাথরুমের শাওয়ার সবকিছুই সংস্কার করা প্রয়োজন। বিশুদ্ধ পানির সংকট এড়াতে ফিল্টার/গভীর নলকূপের বিকল্প নেই।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, কোথায় কোথায় সমস্যা আছে আমরা তালিকা নিয়েছি। প্রকৌশল দপ্তরে চাহিদা দিয়েছি। আশা করি একমাসের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের পানির যে সমস্যা সেটা নিয়ে প্রকৌশল দপ্তরের সাথে কথা হয়েছে। যে পানি ফ্লোরে আসে সেখানকার পাইপে জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে। খুব শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, হলের যে সমস্যা তা নিয়ে প্রাধ্যক্ষদের সাথে আমি আলাপ করে দেখব। এটা করবো, সেটা করবো, সেটা না বলে প্রাধ্যক্ষরা এসব বিষয়ে কেন উদাসীন।

শিক্ষার্থীদের সমস্যায় হল প্রাধ্যক্ষরা উদাসীন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা খুবই খারাপ কথা। আমি হল প্রাধ্যক্ষদের ডেকে জিজ্ঞেস করব, আসলে এরকম কেন? অবশ্যই এসব বিষয় সমাধান হয়ে যাবে। 

 

মানবকণ্ঠ/পিবি


poisha bazar