কুবির আবাসিক হলের কক্ষে তালা দিয়েছে ছাত্রলীগ


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০২ আগস্ট ২০২২, ১৯:০৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। হল উদ্বোধনের একদিন সময় পেরোতেই ৮ থেকে ১০টি কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১ আগস্ট) হলের ২১৩, ২১৪, ২১৫, ২০৭, ২০৮, এবং তৃতীয় তলার ২-৩টি রুমে ও নিচ তলার কয়েকটি রুমে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে রবিবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আব্দুল মঈন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭০ জন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তালা দেওয়ার বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কক্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের বরাদ্দকৃত রুমে ছাত্রলীগ তালা দিয়ে রেখেছে। আমরা রুমে এসে কেউ ঢুকতে পারছিনা। আশেপাশের অনেকগুলো রুমেও একই রকম তালা দেওয়া। ছাত্রলীগ যদি রুমে তালা দিয়ে রাখে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন আমাদেরকে হলে সিট দিল?

আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন ছাত্রলীগের কর্মীদেরকে সিঙ্গেল বেড দিয়েছে, আর আমাদেরকে ডাবলিং দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত উন্মুক্ত পরিবেশে এ্ইরকম বৈষম্য চোখে লাগার মত।

তিনি আরও বলেন, আবার আজকে এসে দেখলাম এখানে নিরাপত্তা প্রহরী নেই। আমাদেরকে বলা হয়েছে রুমে মালামাল রাখতে, কিন্তু আমাদের জিনিসপত্র যে নিরাপদ থাকবে এটারও কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না।

রুম দখলের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, এখানে প্রশাসন হলের সিট নিদিষ্ট করে দিয়েছে। অন্যদের রুমে যদি ছাত্রলীগের কেউ তালা দিয়ে থাকে এবং এটি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রাধ্যক্ষ মো. সাহেদুর রহমান বলেন, তালা মারার বিষয়টি আমি শুনেছি। কে মেরেছে এখনও জানতে পারিনি। তবে আমরা যেভাবে সিট বরাদ্দ দিয়েছি সেভাবেই শিক্ষার্থীরা রুম পাবে।

তিনি আরও বলেন, আমি উদ্বোধনের আগের দিন সিট বরাদ্দের রেজাল্ট তৈরি করে উপাচার্য স্যারকে দেখিয়েছি। ছাত্রলীগকে প্রায়োরিটি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

হলের নিরাপত্তা এবং রুম দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমি আপনার কাছ থেকে মাত্র শুনেছি। হলের বিষয়ে আমার কোন কিছু করার এখতিয়ার নেই। তবে এ বিষয়ে প্রভোস্ট যদি আমাকে অভিযোগ করেন তাহলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারব।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. এএফএম আব্দুল মঈনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেননি।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar