১০২ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০১ জুলাই ২০২২, ১৯:৫২

দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবেই খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ ১০১ পেরিয়ে প্রতিষ্ঠার ১০২ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন : ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’।

শিক্ষা-গবেষণার বিস্তার, মুক্তচিন্তার উন্মেষ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। সেই সময় ৩ অনুষদ, ১২ বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ শিক্ষার্থী এবং ৩ আবাসিক হল নিয়ে এই বিদ্যাপীঠের যাত্রা শুরু।

এদিকে শুক্রবার দিনটিকে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে। দিনভর কর্মসূচির মধ্যে ছিল পতাকা উত্তোলন, পায়রা উড়ানো, বেলুন উড্ডয়ন, কেক কাটা, থিম সং পরিবেশন, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা।

সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে পতাকা উত্তোলন, পায়রা উড়ানো, বেলুন উড্ডয়ন এবং কেক কাটার মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এরপর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাবি উপাচার্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। বেলা ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন : ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য– গবেষণা ও উদ্ভাবন: ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা আগামীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলব। আমরা চাচ্ছি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে র‍্যাংকিংয়ের জন্য যে প্যারামিটারগুলো আছে সেসব বিষয়ে উন্নতি সাধন করতে। মাস্টারপ্ল্যান এবং শিক্ষা প্ল্যানের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্যা উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। কোনোভাবেই আমরা পিছিয়ে যেতে চাই না।

দেশের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এসব আন্দোলনে অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইতিহাসের নানা অধ্যায় এ ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

১৯১৭ সালে স্যাডলার কমিশন ইতিবাচক রিপোর্ট দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত ধাপ তৈরি হয়। অবশেষে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভায় ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ১৯২০’ পাস হয়। ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এই বিলে সম্মতি দেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সব সন্দেহের অবকাশ ঘটে। এ আইনকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইনটির বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।

বর্তমানে ১৩ অনুষদ, ৮৪ বিভাগ, ১৩ ইনস্টিটিউট, ১৯৮৬ জন শিক্ষক, প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১৯টি আবাসিক হল ও ৪টি হোস্টেল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


poisha bazar