ঢাবিতে নতুন করে আসন বিন্যাস


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ জানুয়ারি ২০২২, ২২:৫০

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনসংখ্যার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৪৪ বিভাগ-ইনস্টিটিউটে আসন কমানো ও ১৫টিতে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রায়োগিক বিষয়গুলোতে আসন বাড়ানো ও মৌলিক বিষয়গুলোতে কমানো বা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার পর আসন কমানোর বিষয়টি সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বেকারত্ব কমিয়ে আনার জন্য আসন কমানোর উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ছিল ৭ হাজার ১২৫টি। ডিনস কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে আসনসংখ্যা হবে ৬ হাজার ১১০। অর্থাৎ ১ হাজার ১৫টি আসন কমবে।

বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতকে মৌলিক বিষয় হিসেবে ধরা হয়। এ ছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান-প্রাণিবিদ্যাও অন্যতম মৌলিক বিষয়। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানে দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসকে মৌলিকের তালিকায় ফেলা হয়। ডিনস কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে শুধু অর্থনীতি ছাড়া মৌলিক বিষয়গুলোতে হয় আসন কমবে অথবা অপরিবর্তিত থাকবে৷ তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, তথ্যপ্রযুক্তি, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ প্রভৃতি প্রায়োগিক বিষয়ে অবশ্য আসন বাড়বে৷ তবে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৮টি বিভাগে আসন কমতে পারে।

কোন অনুষদে কত বাড়ছে-কমছে
সুপারিশ অনুযায়ী, কলা অনুষদে ৫১৫টি কমে আসনসংখ্যা ১ হাজার ৮৭৫ থেকে ১ হাজার ৩৬০ হতে পারে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ২০০ আসন কমে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ হতে পারে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ১৫৭টি কমে আসনসংখ্যা ১ হাজার ২২২ থেকে ১ হাজার ৬৫ করার সুপারিশ করা হয়েছে। জীববিজ্ঞান অনুষদে ৯০টি কমে আসনসংখ্যা ৫৮৫ থেকে ৪৯৫ হতে পারে। বিজ্ঞান অনুষদে আসনসংখ্যা ২টি বেড়ে ৪৬৮ থেকে ৪৭০ হতে পারে৷ আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষতে আসনসংখ্যা ১০টি কমে ২৪৫ থেকে ২৩৫ হতে পারে।

ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে ১০টি আসন বাড়িয়ে ২৩৫ থেকে ২৪৫ করার সুপারিশ করেছেন ডিনরা। চারুকলা অনুষদে ৫টি আসন কমে ১৩৫ থেকে ১৩০ করা হতে পারে। আইন অনুষদে ২০টি কমে আসন হতে পারে ১১০টি। ফার্মেসি অনুষদে ১০টি বাড়িয়ে আসন ৬৫ থেকে ৭৫ করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০টি ইনস্টিটিউটে ৪০টি আসন কমিয়ে ৯১৫ থেকে ৮৭৫ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

যেসব বিভাগে আসন কমতে পারে
ডিনস কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কলা অনুষদের বাংলা বিভাগে ১২টি আসন কমে ১৩২ থেকে ১২০, ইংরেজিতে ৩০টি কমে ১৫০ থেকে ১২০, আরবিতে ৫০টি কমে ১৫০ থেকে ১০০, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যে ২৫টি কমে ১০০ থেকে ৭৫, উর্দুতে ৪০টি কমে ১১০ থেকে ৭০, সংস্কৃতে ২৫টি কমে ১৬০ থেকে ১১০, পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজে ৪০টি কমে ৯০ থেকে ৫০, ইতিহাসে ২০টি কমে ১৩০ থেকে ১১০, দর্শনে ৫০টি কমে ১৭০ থেকে ১২০, ইসলামিক স্টাডিজে ৮৫টি কমে ১৮৫ থেকে ১০০, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৫০টি কমে ১৬০ থেকে ১১০, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় ১০টি কমে ৭৫ থেকে ৬৫, ভাষা বিজ্ঞানে ২০টি কমে ৯০ থেকে ৭০, সংগীতে ২০টি কমে ৮০ থেকে ৬০, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতিতে ৪০টি কমে ১০০ থেকে ৬০ আর নৃত্যকলা বিভাগে ৫টি কমে ৩৫ থেকে ৩০ হবে।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৯টি বিভাগের মধ্যে আটটিতেই আসন কমানোর সুপারিশ করেছে ডিনস কমিটি। এর মধ্যে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং ও ফিন্যান্সে ৩০টি করে আসন কমিয়ে ১৮০ থেকে ১৫০ আর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে ১৫টি করে আসন কমিয়ে ১১৫ থেকে কমিয়ে ১০০ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগে ৫০টি আসন কমিয়ে ১৫০ থেকে ১০০ করার কথা বলা হয়েছে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৫০টি আসন কমিয়ে ২০০ থেকে ১৫০, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ২০টি কমিয়ে ১০০ থেকে ৮০, সমাজবিজ্ঞানে ৩৫টি কমিয়ে ১৮৫ থেকে ১৫০, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় ৬টি কমিয়ে ৬৬ থেকে ৬০, লোকপ্রশাসনে ২০টি কমিয়ে ১১০ থেকে ৯০, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নে ২০টি কমিয়ে ৬০ থেকে ৪০, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজে ৫টি কমিয়ে ৪৫ থেকে ৪০, অপরাধবিজ্ঞানে ১০টি কমিয়ে ৬০ থেকে ৫০, যোগাযোগ বৈকল্যে ১০টি কমিয়ে ৪০ থেকে ৩০ আর জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগে ১০টি আসন কমিয়ে ৬০ থেকে ৫০ করার কথা বলা হয়েছে।

জীববিজ্ঞান অনুষদের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগে ২০টি কমে আসনসংখ্যা ১২০ থেকে ১০০, উদ্ভিদবিজ্ঞানে ৫টি কমে ৭৫ থেকে ৭০, প্রাণিবিদ্যায় ২০টি কমে ১০০ থেকে ৮০ আর মনোবিজ্ঞানে ৫০টি আসন কমে ১৩০ থেকে ৮০ করার কথা বলা হয়েছে। আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ৪০টি আসন কমিয়ে ১২০ থেকে ৮০ করা হতে পারে। আইন অনুষদের আইন বিভাগে ২০টি আসন কমিয়ে ১৩০ থেকে ১১০ করার কথা বলা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের আসনসংখ্যা ৫টি কমিয়ে ৩০ থেকে ২৫টি করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৪০টি আসন কমিয়ে ১৬০ থেকে ১২০, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৫টি কমিয়ে ১০৫ থেকে ১০০ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ২০টি আসন কমিয়ে ১৬০ থেকে ১৪০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

যেসব বিভাগে আসন বাড়তে পারে
কলা অনুষদে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজে ৭টি আসন বাড়িয়ে ১৮ থেকে ২৫ করার সুপারিশ করেছে ডিনস কমিটি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগে ১৫টি আসন বাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৫০ করার কথা বলা হয়েছে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগে ২টি আসন বাড়িয়ে ১২৮ থেকে ১৩০, পপুলেশন সায়েন্সেসে ১৫টি বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৪০ ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে ১২টি আসন বাড়িয়ে ২৮ থেকে ৪০ করার সুপারিশ করেছেন ডিনরা।

জীববিজ্ঞান অনুষদের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ৫টি আসন বাড়িয়ে ২০ থেকে ২৫ করা হতে পারে। বিজ্ঞান অনুষদের পরিসংখ্যান বিভাগে ২টি আসন বাড়িয়ে ৮৮ থেকে ৯০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে ১৫টি আসন বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৪০, দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনায় ১০টি বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৪০ এবং আবহাওয়াবিজ্ঞানে ৫টি আসন বাড়িয়ে ২০ থেকে ২৫ করার কথা বলা হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৫টি আসন বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ আর রোবটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৫টি আসন বাড়িয়ে ২০ থেকে ২৫ করার কথা বলা হয়েছে।

ফার্মেসি অনুষদে ফার্মেসি বিভাগে ১০টি আসন বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৭৫ করার কথা বলা হয়েছে। পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৫টি আসন বাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৪০ আর তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে ২০টি বাড়িয়ে আসনসংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

যেসব বিভাগে থাকবে অপরিবর্তিত

ডিনস কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নৃবিজ্ঞান, মুদ্রণ ও প্রকাশনা এবং টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগে অপরিবর্তিত থাকতে পারে আসনসংখ্যা।

জীববিজ্ঞান অনুষদের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান এবং মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগে আসন অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও ফলিত গণিত বিভাগে আসন অপরিবর্তিত রাখতে চান ডিনরা৷ আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ভূতত্ত্ব বিভাগেও আসন অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন, প্রিন্টমেকিং, প্রাচ্যকলা, মৃৎশিল্প, ভাস্কর্য, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগে আসন অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, শক্তি ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ এবং লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসনব্যবস্থা, গ্রন্থাগার সুবিধা, শ্রেণিকক্ষ ও পরিবহন থেকে শুরু করে সর্বত্র অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ রয়েছে। গত দুই দশকে অপরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন বিভাগ-ইনস্টিটিউট খোলা ও একই অনুপাতে অবকাঠামো না বাড়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। অবকাঠামো বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘ভৌত মহাপরিকল্পনা’ প্রস্তুত করেছে৷ সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভৌত মহাপরিকল্পনার আগে একটি ‘একাডেমিক মহাপরিকল্পনা’ প্রস্তুতের আহ্বান জানান৷ এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আসনসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল বলছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বেকারত্ব কমিয়ে আনার জন্য আসনসংখ্যা কমানোর উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।

মাকসুদ কামাল আরো বলেন, আমরা আন্তর্জাতিকভাবে লক্ষ করেছি যে পৃথিবীর মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকেন৷ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন৷ কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষকের ব্যবস্থা আছে৷ অনুপাতটি ১৬:১-এ নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ১৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকবেন।


poisha bazar


ads