রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

এক কমিটিতেই পাঁচ বছর

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া (বাঁমে) ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৪ নভেম্বর ২০২১, ২১:৫২

র্দীঘ পাঁচ বছর ধরে এক কমিটির নেতৃত্বেই চলছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগ। চার বছর আগে শেষ হয়েছে বর্তমানে নেতৃত্বে থাকা কিবরিয়া-রুনুর কমিটির মেয়াদ। তারপরও নতুন কমিটি দেওয়ার বিষয়ে কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের।

ইতোমধ্যে বর্তমান কমিটির অনেক নেতাই ছেড়েছেন ক্যাম্পাস। আবার যারা সক্রিয় আছে তাদের ছাত্রত্ব নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন! এতে নতুন নেতৃত্ব যেমন তৈরি হচ্ছে না, তেমনি ভেঙে পড়েছে সাংগঠনিক কাঠামো।

বারবার আশ্বাস দিয়েও কমিটি না দেওয়ায় নতুন পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাড়ছে গ্রুপিং, তৈরি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আবার যারা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল, তারাও হতাশা নিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই কমিটি ভেঙে দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২৫তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১১ ডিসেম্বর গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ রুনুকে সাধারণ সম্পাদক করে রাবি ছাত্রলীগের ১৩ সদস্যের প্রাথমিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক কমিটির প্রায় ছয় মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেদ্রীয় ছাত্রলীগ। ২০১৭ সালে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

এছাড়াও শাখা ছাত্রলীগের হল কমিটি নেই প্রায় পাঁচ বছর ধরে। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ হলের মধ্যে মাত্র আটটি হলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মিজানুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন খালিদ হাসান বিপ্লব। এরপর বারবার আশ্বাস দিয়েও পূর্ণাঙ্গ হল কমিটি না দেওয়ায় হতাশ নেতাকর্মীরা।

এদিকে করোনার কারণে দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ ছিল ক্যাম্পাস। করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় ক্যাম্পাস খুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে নতুন করে সম্মেলনের আশায় চাঙা হচ্ছেন রাবি শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে ঘিরে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। ক্যাম্পাসে নিয়মিত মিছিল-মিটিং করছেন। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নিজেদের পছন্দনীয় পদে জায়গা পেতে জনবল গোছাতে শুরু করেছে প্রায় ডজনখানেক পদপ্রত্যাশী। অনেকেই আবার সম্মেলনের দাবি জানিয়ে ধরণা দিচ্ছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও ছাত্রলীগের কেদ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণার কাছে।

গত বছর ক্যাম্পাস বন্ধের আগে ৫ ফেব্রুয়ারিতে হল সম্মেলনের উদ্যোগ নেয় বর্তমান মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি। কিন্তু সম্মেলনের ঠিক দুদিন আগে তা স্থগিত করে দেয়া হয়। ফলে হল সম্মেলনকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠা নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশ হয়। কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে অনেক নেতাকর্মী। অনেকেই আবার রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে।

বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে ইতোমধ্যেই বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক লিংকন, হাবিবুল্লাহ নিক্সন, মেজবাহুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম সরকার (ডন), সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিক তাহমিদ তন্ময়, এনায়েত হক রাজু, মেহেদী হাসান মিশু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব ও উপ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তৌহিদ দুর্জয় এবার আলোচনায় রয়েছে। ক্যাম্পাসে তাদের অনুসারি নিয়ে নিয়মিত মিছিল মিটিং করছেন।

শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক লিংকন বলেন, যখনই বিশ^বিদ্যালয়ের মূল কমিটি দেয়ার বিষয়ে কথা হয়, তখনই বর্তমান কমিটি হল সম্মেলনকে ট্রাম কার্ড হিসেবে ব্যবহার করে। এক বছরের কমিটিতে পাঁচ বছর অতিক্রম করেছে। এই সময়ে এসে হল কমিটি আগে দিলে সুফল বয়ে আনবে না। পরবর্তীতে এটার জন্য সমস্যার সম্মূখীন হতে হবে। এমনকি নেতৃত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। এজন্য এই মূহুর্তে আমরা বিশ^বিদ্যালয়ের মূল কমিটি চাচ্ছি।

পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেজবাহুল ইসলাম বলেন, অনেকেই নেতৃত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছে। এদের মধ্যে অনেকেরই পড়াশোনা শেষ। তবে এখনও পর্যন্ত কোন সাংগঠনিক পরিচয় পায়নি তারা। যার ফলে বর্তমান শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনেকাংশে মন্থর হয়ে পড়েছে। সাংগঠনিক কাজে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সম্মেলন দেয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘অনেকেই পাঁচ বছর যাবৎ রাজনীতি করছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। আবার অনেকেই মূল কমিটিতে পাঁচ বছর ধরে পদ নিয়ে বসে আছেন। কমিটি দেয়ার বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হলে পরবর্তী কমিটিতে নেতৃত্ব দেয়ার মতো উপযুক্ত জনবল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে রাবি শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব সংকটে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

এ বিষয়ে রাবি শাখা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মহামারির কারণে আমরা হল সম্মেলন করতে পারিনি। এখন আমরা আগে হল কমিটি দেব তারপর সম্মেলনের প্রস্তুতি নেব। তারপরও আমরা প্রস্তুত আছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যখনই বলবে আমরা সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুত আছি।’

তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


poisha bazar

ads
ads