ঢাবিতে পদোন্নতি নীতিমালায় জটিলতা, ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা - কর্মচারীরা


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২০ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫০

মোতাহার হোসেন, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ নীতিমালায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে তারা সঠিক সময়ে পদোন্নতি পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির নীতিমালা রিভিউ করে সুপারিশ প্রদানের জন্য সিন্ডিকেটে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয় ২০১৮ সালের জুনে। পরে রিভিউ কমিটি ১৬ থেকে ৪ গ্রেডভুক্ত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বিধিমালা রিভিউ করে নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি সমন্বিত বিধিমালা (প্রস্তাবিত) তৈরি করে সিন্ডিকেটে উঠাতে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের এর নিকট জমা দেন। জমা দেওয়ার বছর খানেক পর সিন্ডিকেটে বিষয়টি উঠে।

সিন্ডিকেট সভায় রিভিউ কমিটির সুপারিশ নীতিগতভাবে অনুমোদন করে এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন বা পরিমার্জন করে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুমোদন করবে মর্মে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তীতে প্রায় ৩ মাস বিধিমালায় সংযোগ বিয়োজন বা পরিমার্জন করে ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এটি অনুমোদন দেন এবং এই নীতিমালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাক্ষর করেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি বহির্ভূত। ফলে অনুমোদিত নীতিমালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

অনুমোদিত নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে আগের নীতিমালা অনুযায়ী ১২তম গ্রেড, ১১তম গ্রেড ও ১০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি নবম গ্রেডে পদোন্নতি পেতো। কিন্তু নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ১২তম গ্রেড, ১১ তম গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ১০ গ্রেডে পদোন্নতি পাবে। এক্ষেত্রে ৯ম গ্রেডে সরাসরি পদোন্নতি পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

তবে, এ বিষয়টি মানতে নারাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। তারা জানান, অতীতের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ১২ তম গ্রেড, ১১ তম গ্রেড থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছে। তাই, তারা সরাসরি ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি চান।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রহুল আমীন বলেন, অতীতে এভাবে পদোন্নতি হয়েছে। আমরা এভাবেই পদোন্নতি চাই। নীতিমালায় কোন সমস্যা থাকলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাধান করবে। আমরা কেন এর ভুক্তভোগী হবো।

নীতিমালায় আরও দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে চাকরিরত অবস্থায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করলে উক্ত ডিগ্রী চাকরি বা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সাপেক্ষে কেবলমাত্র সুবিধা প্রদান করা হবে। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা উচ্চতর ডিগ্রী করেছে কিন্তু চাকরি বা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় কোন সুবিধা পাচ্ছে না।

নীতিমালার ১ (জ) তে আরও বলা হয়েছে, স্নাতকোত্তর ও (অনার্স/পাশ) ডিগ্রিধারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার হিসাবে নবম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেড হয়ে চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতি পেতে চাকরিকাল ন্যূনতম আট বছর হতে হবে এবং ডিপ্লোমাধারীদের ক্ষেত্রে মোট চাকরিকাল ১০ বছর হতে হবে। তবে, ৬ষ্ঠ থেকে চতুর্থ গ্রেডে যোগদানের ব্যাপারে কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ্য করা হয়নি।

অন্য ধারায় বলা হয়েছে, বিধিমালা সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পূর্বে এসএসসি বা এইচএসসি পাশধারী এবং এসএসসি পাশ নয় এমন যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের নীতিমালা বিদ্যমান থাকবে। ফলে, ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে পদোন্নতি জ্যেষ্ঠতা নাকি পয়েন্টের ভিত্তিতে তা নিয়ে বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, এই নীতিমালায় আরও অনেক জায়গায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। যা আগের নীতিমালার সাথে পরস্পর বিরোধী।

এদিকে, এসব জটিলতায় আটকে আছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদন্নতি। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের কাছে গেলেও কোন সুরাহা হয়নি।

তবে, উপ-উপাচার্য প্রশাসন বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আইনে রয়েছে ১২, ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে যাবে। কিন্তু আগের নীতিমালা অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি ৯ম গ্রেডে যেতে চায়। কিন্তু মাঝখানে ১০ম গ্রেড পরে। কিন্তু কর্মচারী-কর্মকর্তা এটি মানতে নারাজ।

তিনি বলেন, আইনের মধ্যে এটি পরিবর্তন হয়নি। আইনের মধ্যে যেহেতু এটি পরিবর্তন হয়নি তাই এটা আমি করতে পারি না। আমি আইন অনুসারে যাব। বেআইনিভাবে আইন লঙ্ঘন করে আমি কোন প্রমোশন দিতে পারব না। তাহলে করনীয় কি। করণীয় হচ্ছে এটি সিন্ডিকেট নিয়ে পরিবর্তন করা। আমি কোন বেআইনি কাজ করিনি। ভবিষ্যতেও কোনদিন করবো না।

তবে, বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


poisha bazar

ads
ads