আপন নীড়ে ফিরল শিক্ষার্থীরা


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪০

মোতাহার হোসেন, ঢাবি

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আবাসিক হল। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল খুলে দেয়া হয়। করোনার বিধিনিষেধের ঘেরাটোপের মধ্যে শুরুতে হলে উঠার সুযোগ পেয়েছে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা। যতদ্রুত সম্ভব অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সকালে সরেজমিনে হল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলায় শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে হলে প্রবেশ করছে। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় একে ওপরের খোঁজখবর নিচ্ছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে হল গেটে হল প্রাধ্যক্ষ ও হলের হাউস টিউটর উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের ফুল, মিস্টি ও চকলেট ইত্যাদি দিয়ে বরণ করে নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হƒদয় আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলে এলাম। কতটা আনন্দ লাগে বোঝাতে পারব না।’

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শোভন হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। এখানে এসে মনে হচ্ছে আমরা পুনরায় পুনর্জীবিত হলাম। আমাদের জীবনের যে কলরব ছিল তা আবার ফিরে পেয়েছি।’ শিক্ষার্থীদের বরণ করতে পেরে বেশ আনন্দিত হলের প্রাধ্যক্ষ ও হলের আবাসিক শিক্ষকরা। স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বরণ করতে পেরে আমরা বেশ আনন্দিত। আমাদের বিশ্বাস ছাত্রছাত্রীদের কলরবে হল আবার সরব হয়ে উঠবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম না রাখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, ‘গণরুম সংস্কৃতি নতুন কোনো সমস্যা নয়। এটা অনেক পুরনো সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি একজন শিক্ষার্থীর জন্য ভালো মূল্যবোধের প্রতিবন্ধক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই গণরুম সংস্কৃতি উঠিয়ে দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, গণরুম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্যা। এটি নতুন কোনো সৃষ্ট সমস্যা নয়। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখনো এটা ছিল। শিক্ষার্থীদের ভালো মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে এই গণরুম হলো প্রতিবন্ধকতা। সব শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সব ধরনের সহযোগিতা থাকে তবে বিষয়টির একটি সুরাহা হয়ে যাবে এবং এটি থাকবে না। গণরুম থাকার মতো সংস্কৃতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলেও জানান তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান হলের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে আমাদের জন্য একটি আনন্দের দিন, একেবারে ঈদের দিনের মতো। প্রতিটি হলে আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিকা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শৃঙ্খলার সঙ্গে হলে উঠছে। এই হল, এই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য, তাদের পেয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও একট প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার অবসান ঘটল।’

যত দ্রুত সম্ভব অন্য শিক্ষার্থীদেরও হলে তোলা হবে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীকে হলে ওঠাতে এবং শ্রেণিকক্ষের পাঠদান শুরু করতে আমাদের দুটি বিষয় মাথায় রাখতে হচ্ছে। একটি হলো দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ হার, যেটা এখন একেবারে নিচের দিকে। আরেকটি হলো শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা, সেটিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘দুটিই এখন আশাব্যঞ্জক। আমরা শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বডির সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’ সংক্রমণের হার কমে আসায় হল খুললেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সব শিক্ষার্থীকে করোনা ভাইরাসের টিকার আওতায় আনার পর সরাসরি ক্লাস শুরুর পরিকল্পনার কথা এর আগে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার শিক্ষার্থী অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আসিফ হোসেন খান।

তিনি জানান, প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী সুরক্ষা প্লাটফর্মে নিবন্ধন করে এখন এসএমএসের জন্য অপেক্ষায় আছেন। মহামারীকালে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রত্যেক হলের প্রবেশপথে বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। হলের দেয়ালে নতুন রঙ করা হয়েছে; বাগানে লাগানো হয়েছে ফুলের গাছ। মাঠের ঘাস ছেঁটে ছোট করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের ধুলোয় মলিন ডাইনিং, ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া, রিডিং রুম ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। টয়লেট ও বাথরুমগুলো পরিষ্কার করার পাশাপাশি কোনো কোনো হলে সংস্কারও করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার ছাড়াও কোনো কোনো হলে আলাদাভাবে আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে।


poisha bazar

ads
ads