পাঁচ টাকার হাসপাতালে তালা ঝোলালেন বাড়িওয়ালা


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ জুলাই ২০২১, ১৬:০৫

মূল শহরে থেকে বেশ দূরের গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত গ্রামবাসীদের সেবায় চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছিলো একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। ৫ টাকায় রোগী দেখা ও ৩০ ভাগ খরচে সরবরাহ করা হতো ঔষধ। তবে করোনাকালে হাসপাতাল পরিচালনার প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান না করতে পারায় হাসপাতালের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বাড়িওয়ালা। এতে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন আশপাশের কয়েক গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার শেষপ্রান্তে সাভার উপজেলার পাশে অবস্থিত ফোর্ডনগর গ্রামটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। আশপাশে নেই ভালো কোন চিকিৎসাকেন্দ্রও। এ পরিস্থিতি দেখে সেখানে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেবামূলক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু করে মাজেদা ফাউন্ডেশন। সেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাত্র ৫ টাকায় ডাক্তার দেখানো ও ৩০ ভাগ কমমূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হতো। এছাড়া সাধারণ ঠান্ডা, জ্বর, কাশির ওষুধ দেয়া হতো বিনামূল্যেই। গেল একবছরে আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের ভরসাস্থল হয়ে ওঠে হাসপাতালটি। তবে করোনাকালে হাসপাতালের অর্থায়ন কমে আসে, বকেয়া পড়ে যায় কয়েক মাসের ঘর ভাড়া। এর পরপরই হাসপাতালের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন বাড়িওয়ালা সাইদুর ইসলাম। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় পুস্প রানী নামে একজন বলেন, আমাদের গ্রাম উপজেলার একদম শেষপ্রান্তে। আশপাশে কোন সরকারি হাসপাতাল নাই। ছোট-খাটো অসুস্থতায় আগে সাভার বা ধামরাই শহরে যেতে হতো। কিন্তু এই হাসপাতাল হওয়ার পর থেকে অনেক চিকিৎসা নেয়া যেতো। বিনামূল্যে ওষুধও দিত। অনেক উপকার হতো আমাদের। এটা বন্ধ হয়ে গেলে আবারো আগের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

রিপন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র হওয়ায় গ্রামবাসীর কষ্ট করে দূরে যেতে হয় না। প্রাথমিক সব চিকিৎসা সহজে পাওয়া যায়। এটা বন্ধ হলে গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা তারেক মিয়াজ বলেন, মূল শহর থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একবছর আগে হাসপাতালটি করেছিলাম। তবে করোনায় লকডাউনে আর্থিক সংকটে পড়ায় কিছুদিনের ভাড়া বকেয়া পড়েছো। এজন্য একমাস আগে বাড়িওয়ালা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। বকেয়া পরিশোধে সময় চাইলেও তিনি দিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে বাড়িওয়ালা সাইদুর ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাড়া বকেয়া থাকায় হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। ভাড়া পরিশোধ করলেই এটা খুলে দেয়া হবে।

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, আইনগত ভাবে এখানে আমাদের কিছু করার নেই। এছাড়া আমরা কোন অভিযোগও পাইনি। পেলে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার অনুরোধ করা যেতে পারে।

মানবকণ্ঠ/এনএস


poisha bazar

ads
ads