জালিয়াতির দায়ে পদচ্যুত ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা

জালিয়াতির দায়ে পদচ্যুত ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা
ছবি- বামে নজির আমিন চৌধুরী জয়, ডানে মিখা পিরেগু - সংগৃহীত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৩ জুন ২০২১, ১৫:৩৪,  আপডেট: ২৩ জুন ২০২১, ১৬:২৮

স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং জালিয়াতির তথ্য গোপন করার দায়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মিখা পিরেগুকে বহিষ্কার ও সহ-সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়ের সদস্যপদ স্থগিত করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। তারা দুইজনই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে অনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত কেউ সংগঠনে স্থান পাবেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ।

বুধবার (২৩ জুন) ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজা সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মিখা পিরেগু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তিনি ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮ এর ৩ (২) (ক) ধারা অনুযায়ী বিশেষ পরীক্ষার অনুমতির জন্য আবেদনপত্রে বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর ও সিলমোহর জালিয়াতির অভিযোগে মিখা পিরেগুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তবে ডিসেম্বরে (২০২০) ওঠা জালিয়াতির অভিযোগ গোপন রেখেই নভেম্বরে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়িত করা হয়। এছাড়া এবছর (২০২১) জানুয়ারিতে মিখা পিরেগুকে জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি করা হয়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জালিয়াতি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের বিষয় জানাজানি হলে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি।

এই সময়েই ছাত্র ইউনিয়নে চলমান বিভাজনে নিজেকে একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে পরিচয় দেন জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এই শিক্ষার্থী। এই অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রের একাংশের সভাপতি পরিচয় দেয়া নজির আমিন জয়। অভিযোগ রয়েছে জালিয়াতি গোপন করে মিখা পিরেগুর উত্থানের পেছনে সর্বাত্মক ভূমিকা রয়েছে তার।

এসব অভিযোগের প্রমাণ মেলার পরেই কেন্দ্রীয় কমিটি ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হল ছাত্র ইউনিয়নের এই দুই নেতাকে।

ছাত্র ইউনয়নের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়নের সময় জালিয়াতিতে অভিযুক্ত ও বহিষ্কারের বিষয়টি গোপন করেছিলেন মিখা পিরেগু। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমে স্বাক্ষর জালিয়াতির দায়ে মিখা পিরেগুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করার সংবাদটি কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসে। পরে ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ তাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। এনিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি মিখা পিরেগুকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিলে তিনি মৌখিকভাবে জানায় এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে রিভিউ আবেদন করেছেন বলে জানান। এসময় কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে রিভিউ আবেদনের দলিলাদি এবং তার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর দাখিল করতে বলে। কিন্তু ৪ মাসেও এ সংক্রান্ত কোন তথ্য না দিতে পারায় তাকে পুণরায় কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু এতেও জবাব দেননি তিনি।

এতে আরও বলা হয়, ২০২০ সালের নভেম্বরে ছাত্র ইউনিয়নের ৪০তম জাতীয় সম্মেলনে মিখা পিরেগুর ছাত্রত্ব ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সংগঠনের ৪০তম জাতীয় সম্মেলনে মিখা পিরেগুর ছাত্রত্ব এবং তার অনিয়মের বিষয়ে আলাপ হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাবেক সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় মিখা পিরেগুর অনিয়ম এবং ছাত্রত্ব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলাপ করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলে আগের কমিটিকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু গণমাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর একাধিক নোটিশের জবাব না পেয়ে ও তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এমন অনৈতিক কাজে যুক্ত একজনকে সহায়তা করে পদায়িত করতে সহায়তা করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়।

এসব কারণে গঠনতন্ত্রের ৫৬(গ) ধারা অনুযায়ী মিখা পিরেগুকে বহিষ্কার ও তাকে সহায়তার জন্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়ের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।

বাম ধারার এ সংগঠনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র ইউনিয়ন কখনো অন্যায়কে প্রশয় দেয় না, নীতি-আদর্শের প্রশ্নে ছাত্র ইউনিয়ন তার জন্মলগ্ন থেকে অবিচল। স্বাক্ষর জালিয়াতি ও জালিয়াতির তথ্য গোপনের দায়ে মিখা পিরেগুকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার এবং জালিয়াতির তথ্য গোপনে সহযোগিতা করায় নজির আমিন চৌধুরী জয়ের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

তবে এবিষয়ে জানতে ছাত্র ইউনিয়নের বিভাজনে নেতৃত্ব দেয়া নজির আমিন চৌধুরী জয়কে ফোন করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দেবেন না বলে জানান। অপরদিকে মিখা পিরেগুকে তার ০১৭৮৩০৯--৯৪ নম্বরে কল দেয়া হলে নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ছাত্র ইউনিয়ন কখনোই কোনো অনৈতিকতা আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় না। এই ঘটনা তার উদাহরণ হয়ে থাকবে। অনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত কেউ সংগঠনে স্থান পাবেন না। ভবিষ্যতেও এমন কিছুর বিরুদ্ধে থাকবে ছাত্র ইউনিয়ন।



poisha bazar

ads
ads