জুলাইয়েও খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২১ জুন ২০২১, ১২:২৭

করোনার সংক্রমণ এড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার না কমলে ছুটি ফের বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। সরকারি বিধিনিষেধ ও ঈদুল আজহার সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি আরো এক মাস বাড়তে পারে। সেই হিসেবে আগামী জুলাইয়েও খুলেছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে সংক্রমণ না কমায় চলতি বছরও হচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। তবে গত বছরের মতো অটো প্রমোশন না দিয়ে বাড়ির কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না নিয়ে ‘বাড়ির কাজের’ মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়টি আগেভাগেই জানিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সেজন্য কোন পদ্ধতিতে তাদের পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেয়া হবে তার সারসংক্ষেপ তৈরির কাজ শুরু করেছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পদ্ধতি নির্ধারণ করে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে, সেখানে সায় মিললে জুলাই মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে। একইসঙ্গে ৮ম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষা গতবারের মতো এবারো হবে না- এমনও হতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল রবিবার বলেন, মাঝে করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ সংক্রমণ ও মৃত্যু- দুটিই বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সিদ্ধান্ত আসবে না।

৩০ জুনের পর ছুটি কতদিন বাড়তে পারে- জানতে চাইলে সচিব জানান, চলতি সপ্তাহে করোনা মোকাবিলায় সরকারের গঠিত পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সরকারি বিধিনিষেধ আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ২২ বা ২৩ জুলাই ঈদুল আজহা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি পুরো জুলাই মাসজুড়ে বহাল থাকতে পারে।

ঈদের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে সেটা জানি। কবে খুলবে এর নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এ মুহূর্তে বলা যাবে না। কারণ এর আগেও দু’বার তারিখ ঘোষণার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা যায়নি। তা ছাড়া এই মুহূর্তে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। তাই আপাতত কোনো কিছুই বলা সম্ভব নয়।

দেশে করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জানা গেছে, ৩০ জুনের পর স্কুল-কলেজ খোলা হবে নাকি চলমান ছুটি আরো বাড়বে সে বিষয়ে ২৫ জুনের পর সিদ্ধান্ত জানাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা প্রতিদিন করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সংক্রমণ ৫ শতাংশে নেমে না এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে না। বর্তমানে সংক্রমণের হার ১৫ শতাংশের কাছাকাছি। এই অবস্থায় স্কুল-কলেজ খোলার ঝুঁকি নিতে চায় না মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা দেশের স্কুল-কলেজ ৩০ মার্চ খুলে দেয়া হবে। আর সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষে সরাসরি ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৪ মে থেকে। এর এক সপ্তাহ আগে ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল খুলে দেয়া হবে। কিন্তু এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার সেই ঘোষণা মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা কমার পর গত ২৬ মে ফের শিক্ষামন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে। তার এ ঘোষণার পর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়ায় কয়েকটি জেলায় লকডাউন দেয়া হয়। এর মধ্যে সারাদেশে বাড়তে থাকে সংক্রমণের হার। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আপাতত বাড়ির কাজের দিকে আমরা বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা না নিতে পারলে বাড়ির কাজের মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেয়া হবে।

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাও হবে না। একই রকম সিদ্ধান্ত হতে পারে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ব্যাপারেও। এ দুটিই অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা।

গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে পিএসসি, জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া যায়নি। পিএসসি ও জেএসসি শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেয়া হয়। আর এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ফলাফল দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা না নেয়া হলেও ছাত্রছাত্রীদের শিখন ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগে থেকেই টেলিভিশন ও বেতারে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে গুগলমিটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ক্লাস নিতে বলা হয়েছে। ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপে সর্বশেষ যুক্ত করা হয় ‘বাড়ির কাজ’। এ লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে ‘অন্তর্বর্তীকালীন পাঠপরিকল্পনা’।

তাতে বিষয়ভিত্তিক বাড়ির কাজ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা হিসাব করে শিক্ষকরা তা ফটোকপি করবেন। এরপর সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তা বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন। শিক্ষার্থী অভিভাবকের সহায়তায় বাড়ির কাজ করে রাখবে। পরের সপ্তাহে গিয়ে তা সংগ্রহের পাশাপাশি নতুন কাজ দিয়ে আসবেন শিক্ষক। দ্বিতীয় সপ্তাহে গিয়ে সেটা সংগ্রহ করে আবার তৃতীয় সপ্তাহের বাড়ির কাজ দিয়ে আসবেন। এই পাঠ পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ)।

অন্যদিকে জেএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নভেম্বরে নেয়া হয়। অন্য বছর এই সময়ে রেজিস্ট্রেশন, ফর্ম পূরণসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করা হয়। শুরু হয় প্রশ্নপত্র তৈরি ও মুদ্রণকাজ। এ বছর এসব নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি। এতে বলা যায়, পরীক্ষাটি এবার না-ও হতে পারে। এ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি বলতে কেবল রেজিস্ট্রেশন করে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত বছর এইচএসসি, জেএসসি ও পিএসসি সমমানের সকল পরীক্ষাসহ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সব শ্রেণিতে পরীক্ষা না নিয়ে ‘অটো পাস’ দিয়ে পরের শ্রেণিতে তোলা হয়।


poisha bazar

ads
ads