মার্স্টাসের ভর্তি ফি কমানোর দাবি কুবি শিক্ষার্থীদের


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৯ জুন ২০২১, ১১:৩১

মহামারী কোভিড-১৯ এর প্রার্দুভাবে দীর্ঘদিন লকডাউন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক ভাবে সংকট পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। এ অবস্থায় মার্স্টাসের ভর্তি ফি কমানোর দাবি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার পর হতেই শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানিয়ে আসছে।

জানা যায়, মার্স্টাসের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রথম সেমিস্টার ভর্তি ফি বাবদ অনুষদ এবং বিভাগভেদে ৭ হাজার ১০০ থেকে শুরু করে ৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয় শিক্ষার্থীদের। যা করোনাকালীন এ পরিস্থিতিতে দেওয়া অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। মার্স্টাসের ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসুবকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হয়েছে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকত্তোরের শিক্ষার্থী শাহ করিম সাজিদ বলেন, আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করি অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবারের। অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরিবার থেকে টাকা নিতে পারেন না। তাদের টিউশন, কোচিং করিয়ে চলতে হয়। কিন্তু দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনেকে অসহায় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মাস্টার্সের এত বিশাল ভর্তি ফি অনেকের পক্ষেই দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পাড়বে।

মার্কেটিং বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ওসমান ফারুক বলেন, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে সুবিধা দেয়নি। একদিকে আমাদের টিউশন বন্ধ হয়ে গেছে অন্যদিকে আমাদেরকে নিজেদের টাকায় বা ধারদেনা করে ইন্টারনেট কিনে ক্লাস করতে হয়েছে যেই টাকা খরচের পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির প্রায় সমান।

এ অবস্থায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাস্টার্সে এতো টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়া আমাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় অসম্ভব। এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে মাস্টার্সের ভর্তি ফি এবং করোনাকালীন সময় আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ফি কমানোর দাবি জানাই।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব বণিক বলেন, করোনার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক ভাবে সংকটে পড়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে টিউশন বা পার্টটাইম কোন জব করে চলা যায়। এখন সে পথও বন্ধ। এদিকে মার্স্টাসে ভর্তি হতে বড় অংকের টাকা প্রয়োজন। যা দেওয়া অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। মানবিক দিক বিবেচনা করে ভর্তি ফি কমানোর দাবি জানাচ্ছি।

ভর্তি ফি কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমি সব সময়ই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আছি। শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে আমরা বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।



poisha bazar

ads
ads