চলতি বছরেও চার পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৫

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে খোলা যাবে সেটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরেও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এসএসসি ও সমমানে পরীক্ষা নিয়েই বেশি শঙ্কায় রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

কেন না ইতোমধ্যে এই পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণও স্থগিত হয়ে গেছে। আর পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে মাত্র ৬০ দিনের ক্লাসের যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছিল করোনার কারণে সেটির বাস্তবায়নও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শেষতক চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে কি না সেটিও এখন নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না। তবে পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব না হলেও অটো পাসের পরিবর্তে একাধিক বিকল্প নিয়েও কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দেশে করোনা পরিস্থিতি যেভাবে বাড়ছে তাতে চলতি বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তবে এসব পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে। অন্যথায় সিলেবাস শেষ না হলে এ দুই পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করা যাবে না। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে এসএসসির প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর একসঙ্গে পরীক্ষা নেয়া অসম্ভব কর্মযজ্ঞ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও করোনার কারণে ফলাফল প্রকাশে বেশ বিলম্ব হয়েছিল; কিন্তু এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। সেখানে সব শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছিল অটোপাস। অন্যদিকে প্রাথমিকের পিইসি এবং মাধ্যমিকে জেএসসি পরীক্ষা না নিয়ে দেয়া হয় অটোপাস। যদিও এই অটোপাস নিয়ে বিভিন্ন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অটোপাসের বিকল্প কিছু তখন করাও যায়নি। তবে চলতি বছরের এই চার পাবলিক পরীক্ষার (পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি) অটোপাস না দিয়ে বিকল্প ভাবছে সরকার। কেন না করোনার কারণে এ বছরের এসএসসির ৬০ দিনের ক্লাস পরিকল্পনা এবং এইচএসসি ৮৪ দিনের ক্লাস পরিকল্পনা নিয়েও হোঁচট খাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তাই অটোপাসের পরিবর্তে একাধিক বিকল্প নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর যদি করোনার প্রকোপ না কমে বা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে এসএসসির ৬০ দিনের ক্লাস পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে এটাতে আরো কাটছাঁট করা হবে। একইভাবে এইচএসসির ৮৪ দিনের ক্লাসের পরিকল্পনাকে সঙ্কুচিত করা হবে। আর শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ধরে রাখতে অনলাইন বা টিভি ক্লাসের মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে নেয়ার কাজটি অব্যাহত রাখা হবে।

অন্যদিকে পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে তাদেরকে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সীমিত পরিসরে হলেও স্কুলে নিয়ে এসে পরীক্ষার আগে পরিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা করা হবে। গত বছরের মতো গড়পড়তায় সব শিক্ষার্থীকে অটোপাস না দিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়ে পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ করারও চিন্তা করা হচ্ছে।

যদিও করোনা পরিস্থিতি এবং ঘোষিত লকডাউনের খবরে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন না করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে কঠোর লকডাউনের কথা ভাবছে সরকার। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও গভীর খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কবে হবে বা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন সবার।

অটোপাশের বিপক্ষে মত দিয়ে শিক্ষাবিদ এবং এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য যদি অটোপাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে সেটি হবে দুর্ভাগ্যজনক। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়া হলেও তারা তাদের পুরো দুই বছরের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। শুধু পরীক্ষা নেয়াটা সম্ভব হয়নি। তবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। যার কারণে ভবিষ্যতে তারা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে মত দিচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘যে দেশ থেকে বিদেশিরা পরামর্শ এবং বিশেষজ্ঞ ফি বাবদ প্রতি বছর ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যায়, সে দেশে মানুষ থাকার পরও আমরা কাজ করতে পারি না, আমরা দক্ষ না। আর এর মধ্যে যদি অটোপাসের আবর্তে পড়ি তাহলে আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ হবে।’

এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ​জানিয়েছেন, সব প্রস্তুতি থাকার পরেও করোনার এই ঊর্ধ্বগতির কারণে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারছি না। আর এই পরিস্থিতিতে আমরা পাবলিক পরীক্ষা ও শ্রেণী পরীক্ষাও নেয়ার মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছি না।

ফলে বাধ্য হয়েই আমরা স্কুল-কলেজ আবারো বন্ধ ঘোষণা করেছি। সে জন্য পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বিকল্প উপায় খুঁজে পাওয়া যায় কি না বা সেটি খুঁজতে ১১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে বিকল্প কোনো পথ বা পন্থা বের করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

 






ads
ads