রাবির ৫০ বছর মেয়াদী ‘মাস্টার প্ল্যান’ ও ত্রি-মাত্রিক মডেল উন্মোচন

মাস্টার প্ল্যান রাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যান - ছবি: প্রতিনিধি

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৫

শিক্ষার গুণগতমানের উৎকর্ষ সাধন ও সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫০ বছর মেয়াদী (২০২০-২০৭০) এক ‘মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এ বিষয়ে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

এই মাস্টার প্ল্যানে আগামী ৫০ বছর পর কেমন হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তার একটি ত্রি-মাত্রিক মডেল উন্মোচন করেন তিনি। পরে তিনি মাস্টার প্ল্যানের গ্রন্থিত কপিটিরও মোড়ক উন্মোচন করেন।

সীমিত পরিসরের এই আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য ও মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেস্টা অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. মো. আজিজুর রহমান, অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১ অক্টোবর ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫০১তম সভায় মাস্টার প্ল্যানটি অনুমোদিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মাস্টার প্ল্যান ১৯৬২ সালে প্রণীত হয়। নতুন মাস্টার প্ল্যানটিতে প্রথম মাস্টার প্ল্যানের ধারণাগুলোকে সমন্বিত রেখে যুগোপযোগী করা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি খ্যাতনামা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এটি প্রণয়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে। বর্তমান মাস্টার প্ল্যানটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় ৭৫০ একর এলাকাকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

এতে মূল তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৌশলগত এবং স্থানিক পরিকল্পনা। ১০ বছর মেয়াদী প্রথম পর্যায় (২০২০-২০৩০), ২০ বছর মেয়াদী দ্বিতীয় পর্যায় (২০৩১-২০৫০) ও আরেকটি ২০ বছর মেয়াদী তৃতীয় পর্যায়ে (২০৫১-২০৭০) মাস্টার প্ল্যানটি বাস্তবায়িত হবে।

এ মাস্টার প্ল্যানে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা আছে। দীর্ঘ মেয়াদে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতার বিষয়টিও এ মাস্টার প্ল্যানে অন্যতম গুরুত্ব পেয়েছে।

গুণগত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই মাস্টার প্ল্যানে যে সকল পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- একাডেমিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, গ্রন্থাগার আধুনিকিকরণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তা-ঘাট ও উন্মুক্ত স্থানের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আধুনিক জিমনেসিয়াম স্থাপন, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ড্রেনেজ, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি এই মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক রকীব আহমদ ও অধ্যাপক মো. রেজাউর রহমান ও প্রকৌশলী খ. শাহরিয়ার রহমান।

মানবকণ্ঠ/আইএইচ



poisha bazar

ads
ads