শিক্ষার্থীদের অটোপাস দাবি, যা বলছেন উপাচার্য

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৯

মহামারি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি বছরের জেএসসি-এইচএসসি’র মতো পরীক্ষা বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ছাড়া ফল না ঘোষণার সিদ্ধান্তে অনড় কর্তৃপক্ষ।

করোনার মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রায় আট মাস সেশনজটে পড়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় অনার্স চতুর্থ বর্ষের দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষার্থী অটোপাশের দাবি জানিয়েছে। এদের অনেকেই অটো পাসের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর।

অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের সেশন শেষ হয়েছে জুলাইতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সব বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়ে এতদিনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতো। তারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ লাখ ছাত্রছাত্রী সবাই বর্তমানে অবহেলিত হয়ে সময় পার করছেন। কিন্তু তাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না। বয়স তো আর থেমে থাকবে না। এ কারণে সব বর্ষের ছাত্রছাত্রীর অটো পাস চান তারা।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের অনার্স শেষ করতে ছয়-সাত বছর পর্যন্ত লাগতো। আমি ২০১৩ সালে আসার পর সেশনজটকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছি, এটা থেকে কীভাবে উত্তরণ করা যায়। গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিই। এবার করোনা মহামারি না হলে ২০১৯ সালের পরীক্ষা ২০১৯ সালেই হতো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি অকল্পনীয় ছিল।

তিনি বলেন, অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সব পরীক্ষা নেয়া হয়নি। কোনো বিভাগের চারটি, আবার কোনো বিভাগের তিনটি পরীক্ষা বাকি আছে। এছাড়া বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষাও বাকি রয়েছে। অর্ধেক পরীক্ষা নিয়ে যদি ফল ঘোষণা করা হয়, তবে অসম্পূর্ণ ফল নিয়ে তারা না পারবে বিদেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে, আর চাকরির জন্য আবেদন করলে চাকরিদাতারা জানবেন যে তারা সব বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে আসেননি। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য পার্মানেন্ট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। যে কারণে তাদের ধৈর্য ধরতে বলেছি। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে বাকি পরীক্ষাগুলো নিয়ে ফলাফল ন্যূনতম সময়ের মধ্যে দেবো।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে আমরা কয়েক মাস পিছিয়ে গেছি। তবে আমাদের পরিবেশ যদি অনুকূল হয়, তাহলে কয়েক মাস পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়। কারণ, নতুন করে কিছু করতে হবে না। নতুন করে প্রশ্ন করতে হবে না। আমরা ফলাফল ম্যান্ডেটরি করেছি। ফল তিন মাসের মধ্যে দিতে হবে।

করোনাভাইরাসের মহামারি কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই ছুটি থাকবে।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও এই মুহূর্তে অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), ইবতেদায়ি সমাপনী (ইইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ছাড়া ফল না ঘোষণার সিদ্ধান্তে অনড় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দেশে করোনায় প্রতিদিন মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে দেশে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ লাখ ৩ হাজার ৭৯ জন।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads