বিড়ম্বনায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা


poisha bazar

  • হুসাইন মোতাহার, ঢাবি
  • ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২০

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ থাকা হলে একাডেমিক কাগজপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হলেও তা গোছানোর সময় দেয়া হচ্ছে না। অনুমতি নিয়ে রুমে প্রবেশ করলেও মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করার পর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন হল কর্তৃপক্ষ।

মহামারী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা হয়। ২০ মার্চ থেকে সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় হলের শিক্ষার্থীরা একধরনের অপ্রস্তুত অবস্থায় তাদের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কিছুদিনের মধ্যে কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে এলে শুধুমাত্র কাগজপত্র ও বইখাতা নিতে দেয়া হয় তাদের। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের কাপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিতে চাইলেও হল প্রশাসন নিতে দেয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কাপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিতে না দেয়ায় এসবে উঁইপোকা বাসা বেঁধেছে— এমন খবর পেয়ে তা নিতে এলেও শুধু শীতের কাপড় ও দুটি জামা ছাড়া অন্য কিছু নিতে দিচ্ছে না হল প্রশাসন। হাউস টিউটর ও কর্মচারীরা তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছেন। জিনিসপত্র গোছানোর জন্য দেয়া হচ্ছে মাত্র পাঁচ মিনিট।

হলের শিক্ষার্থী নুসরাত সাদিয়া বলেন, গত সাত মাস ধরে হল বন্ধ। হলে রেখে যাওয়া আমার সব জামা উঁইপোকা কেটে ফেলেছে। এ অবস্থায় হলে এলে আমাকে মাত্র দুটি জামা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই দুটি জামাও উঁইয়ে কেটেছে। তা ছাড়া আমার বই-খাতাও সব কেটে ফেলেছে। আমি এগুলো পরিষ্কারও করতে পারিনি। আমাকে গোছানোর সময়ও দেয়নি। মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় দিয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী তামান্না বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সারারাত জার্নি করে এলেও এক ঘণ্টা পর হলে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছি। আমি জানতাম হল খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। আমি ১০টার দিকে হলে গেলে আমাকে গেস্টরুমে পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আমি জানতাম না যে হলে প্রবেশ করতে দেয়া হয় ১১টা থেকে। তখন আমাকে বাধ্য হয়ে ১ ঘণ্টা হলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এসময় আমার সাথে অনেক মেয়েও বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি আরো বলেন, রুমে প্রবেশ করে ৫ মিনিটও সময় দেয়া হয়নি আমাকে। ২ মিনিট পার হওয়ার পর থেকে হলের এক কর্মচারী ‘জলদি করেন, জলদি করেন’ বলতে শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক ছাত্রী বলেন, হাউস টিউটরদের ফোন দিলেও আমরা তাদের সময়মতো পাই না। ম্যাডামরা ঠিকমতো ফোন ধরেন না, ধরলেও খারাপ ব্যবহার করেন। অনেকের সাথে রাগারাগি পর্যন্ত করেছেন।

জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষা অধ্যাপক ড. শামিম বানু মানবকণ্ঠকে বলেন, আমি গতকাল (শুক্রবার) শিক্ষকদের সাথে দুই ঘণ্টার ওপরে ভার্চুয়াল মিটিং করেছি। শিক্ষার্থীদের যে সমস্যা সেগুলো সমাধান করা হবে। আমি সবসময় হল অফিসে থাকি। আমার কাছে এ বিষয়ে কখনো কেউ অভিযোগ করেনি।

তিনি বলেন, হলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার জন্য। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের জিনিসপত্র নেয়ার ব্যাপারে সময় সীমিত করা হয়েছিল। কারণ, একটি রুমে একজন শিক্ষার্থী ছাড়াও আরো ৭ জন শিক্ষার্থী থাকে। আমরা আগে বলেছিলাম মাত্র দুটি কাপড় নিয়ে যেতে পারবে। এখন বলেছি তাদের যত কাপড় তারা নিয়ে যেতে চায় তারা নিতে পারবে। শিক্ষার্থীরা যদি সব জিনিস নিয়ে যায় পরে যখন হল খুলবে তখন তারাই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে তাদের জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে। তাই আমরা চাচ্ছিলাম মেয়েদের জিনিসপত্র থাকুক। তাহলে পরে যখন তারা আসবে তারা তাদের জিনিসপত্রগুলো পাবে। মূলত নিরাপত্তার কারণে হলের সব জিনিস নিতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে, শিক্ষার্থীরা এখন চাইলে তাদের সকল জিনিস নিয়ে যেতে পারবে। শিক্ষার্থীদেরও চেষ্টা করতে হবে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য।

গেস্টরুমে প্রবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন, গেস্টরুমের বিষয়টি প্রথমদিকে ছিল— এখন খুলে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এলে আমাদের কর্মচারীরা উপরে নিয়ে যায়। উপরে যাওয়ার পর তাদের যে জিনিসপত্র নেয়ার সেগুলো নেয়। শিক্ষার্থীদের ১০ মিনিট বলা হলেও সবাই বেশি সময় থাকে। তাদের নিরাপত্তার জন্য হলের কর্মচারীরা সাথে থাকে। এখন যেহেতু এ অভিযোগ আসছে তাই আমি বলেছি শিক্ষার্থীরা যতটুকু সময় প্রয়োজন তারা থাকবে। গেস্টরুমও খুলে দেয়া হবে।






ads