৪ শতাধিক পরীক্ষা স্থগিতে বিপাকে ২৯ লাখ শিক্ষার্থী

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:০৫

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর কারণে স্থগিত রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স, অনার্স ও ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্সের ৪ শতাধিক পরীক্ষা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে প্রায় ২৯ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী। কবে এইসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

আবার করোনার সংকট কাটিয়ে উঠার পর কীভাবে উচ্চশিক্ষার এ জট ছাড়ানো যাবে এখনো নিরূপণ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়। তাই সরকারি চাকরিতে বয়স নিয়ে শঙ্কিত এসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এরই মধ্যে তারা পিএসসি, জেএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষার আদলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়েও নতুন করে ভাবার দাবি জানিয়েছেন। বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, সেশন জট যে শুধু বাড়ছে তা শুধু নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নির্দেশনাও আমাদের কাছে নেই। অনেকে আবার চাকরির বয়স নিয়েও শঙ্কিত।

মৌলভীবাজার সরাকারি কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার মৌসুমী, মার্চেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বেশির ভাগ বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হলেও করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর কারণে দুটি থেকে পাঁচটি বিষয়ের পরীক্ষা আটকে যায়। তখন থেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন তারা; কবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কেটে গেছে ৭ মাস। অনেকের মধ্যেই উৎকণ্ঠা আর হতাশা দানা বাঁধছে। কবে শেষ হবে বাকি পরীক্ষাগুলো। কবে হবে পরীক্ষার ফলাফল। কারণ চতুর্থ বর্ষ শেষ না হলে মিলবে না সনদ। সনদ না মিললে চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণও করা হবে না।

সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, চারটি পরীক্ষা দিলেই শেষ হতো শিক্ষাজীবন। কিন্তু করোনার কারণে আটকে আছি। করোনার মধ্যেও অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ফল প্রকাশ হলে চাকরির জন্য চেষ্টা করার সুযোগ পেতাম কিন্তু পারছি না। আবেদনের বয়স আর কতদিন থাকবে। চাকরির প্রবেশের বয়স সরকার ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু সে সময়ও পেরিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের আলহাজ মকবুল হোসেন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লামিউল ইসলাম জানান, অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন করোনা মহামারীর কারণে তিনটি পরীক্ষা বাকি রেখে সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ৭ মাসেও ওই তিন পরীক্ষা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। এখনো বাকি পরীক্ষা নেয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি এবং অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আগের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণপূর্বক অটোপাস দিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি স্বয়ংক্রিয় পাসের দাবিতে গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অটোপাস দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন কলেজের বিএ (সম্মান) ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা এই মানববন্ধন করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, স্বয়ংক্রিয় পাসের বিষয়টি এখনই ভাবা হচ্ছে না। অপেক্ষা করছি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় এনে এই মুহূর্তে ফেস টু ফেস পরীক্ষাও নেয়া যাচ্ছে না। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। ভ্যাকসিন এলেও সমস্যার সমাধান হবে। ডিগ্রি পাস কোর্স দ্বিতীয় বর্ষ ও তৃতীয় বর্ষ, মাস্টার্স ফাইনাল এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে এসব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়। ডিগ্রি পাস কোর্সে প্রতিটি বর্ষে ৩৪টি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

নজরুল আমিন নামে এক শিক্ষক বলেন, এসব স্তরের পরীক্ষার ফল দিয়ে পরবর্তী স্তরে উত্তীর্ণের সুযোগ দেয়া উচিত। অনলাইনের কার্যকর কোনো লেখাপড়া হচ্ছে না। আগস্ট পর্যন্ত মাস্টার্স প্রিলিমিনারি, অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। প্রতিটি বর্ষের ৩১টি বিষয়ে পরীক্ষা রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে এই পরীক্ষার সূচিও প্রস্তুত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব স্তরের শিক্ষার্থীরাও তাদের পরবর্তী স্তরে উত্তীর্ণের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষাবিদ ও রাজশাহী

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক মানবকণ্ঠকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একই নিয়ম। এইচএসসির মতো উচ্চ স্তরে স্বয়ংক্রিয় পাস বা বিকল্প মূল্যায়নের সুযোগ নেই। প্রয়োজনে অনলাইনে হলেও এই পরীক্ষা নিয়ে নেয়া উচিত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার এক দুই সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা নেয়া যাবে। সব প্রস্তুতি নেয়া আছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হলে সেটা ভিন্ন কথা। এই স্তরে স্বয়ংক্রিয় পাস ঠিক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

 





ads







Loading...