শুরু হয়েছে নতুন বই ছাপা

সেলিম আহমেদ

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১৪:১৪

এনসিটিবি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে যে, নতুন বছর শুরুর প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে। সেই প্রস্তুতি নিয়েই সামনে এগুচ্ছে এনসিটিবি। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের ৩ মাস পর অবশেষে শুরু হয়েছে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যবই ছাপার কাজ। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো শুরু করেছে প্রায় ৩৬ কোটি কপি বই ছাপার কাজ। এদিকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জন করে আনা হয়েছে নতুনত্ব। বইয়ের কাভার পেজে থাকবে মুজিববর্ষের লগো আর ইনার পেজে থাকবে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের নানা উন্নয়ন প্রকল্পের ছবি। যথাসময়ে বই ছাপার কাজ শেষ করে নতুন বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আগামী বছর প্রথম, দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিমার্জিত কারিকুলামে নতুন পাঠ্যবই দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ শেষ করতে পারেননি। ফলে আগামী বছরের পরিবর্তে ২০২২ সালে নতুন কারিকুলামে পাঠ্যবই দেয়া হবে শিশুদের হাতে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বছরের প্রথম দিন পাঠ্যপুস্তক উৎসব করে বিনামূল্যের বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। চলতি বছর করোনার কারণে ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষাবর্ষ কীভাবে শেষ হবে সেটি নিয়েও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবুও এনসিটিবি জানিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের বই ছাপানোর কাজে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য বেশিরভাগ কাজ অনলাইনে শেষ করেছেন।

এনসিটিবির সম্পাদনা ও বিপণন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এনসিটিবি। মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৩টি বই ছাড়া বাকিগুলো ইতোমধ্যে মুদ্রণে চলে গেছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতিটি বইয়ে পরিমার্জন করে নতুনত্ব যোগ করার সিদ্ধান্তের কাভার ও ইনার পেজ এখনো চ‚ড়ান্ত করতে পারেনি এনসিটিবি। তবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বই ছাপা ও সরবরাহ শেষ করার কথা বলছেন তারা। সর্বোচ্চ ৯০ দিনে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করার লক্ষ্য এনসিটিবির। এছাড়াও আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্য তালিকায় ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীতে আনন্দপাঠ ও ৯ম ও দশম শ্রেণিতে ব্যাকরণ নামে নতুন বই যুক্ত হবে। এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির জন্য ব্রেইল বইসহ (৯ হাজার ৫০৪টি) ২৪ কোটি ৪১ লাখ ২২ হাজার ৩৪৯টি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। দাখিলের জন্য ৩ কোটি ৮১ লাখ ৭২ হাজার ৬১৫টি, এবতেদায়ির ২ কোটি ৪১ লাখ ৫৯ হাজার ৬০টি এবং মাধ্যমিকের ১৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১টি পাঠ্যবই। এ ছাড়া প্রাথমিকের জন্য প্রায় ১০ কোটি পাঠ্যবই।

সূত্র জানায়, মাধ্যমিক পর্যায়ের ওই ১৩টি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন আনা হয়েছে। সেই বইগুলো চ‚ড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দিবে। চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দিয়েই বইগুলো আগামী সপ্তাহেই ছাপাখানায় পাঠানো হবে। এছাড়াও প্রতিটি বইয়ের কাভার পেজে থাকবে মুজিববর্ষের ছবি ও ইনার পেজে থাকবে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের নানা উন্নয়ন প্রকল্পের ছবি। ছবিগুলো চ‚ড়ান্ত করার জন্য গত বুধবার এনসিটিবিতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন ছবির প্রস্তাব এসেছে। সেই প্রস্তাবগুলো যাচাই করে আগামী সপ্তাহেই কাভার পেজ ও ইনার পেজ চূড়ান্ত করে ছাপাখানায় পাঠানো হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে পিছিয়ে গেছে নতুন কারিকুলাম প্রবর্তনের কার্যক্রম। আগামী বছর প্রথম, দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিমার্জিত কারিকুলামে নতুন পাঠ্যবই দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ শেষ করতে পারেননি। ফলে আগামী বছরের পরিবর্তে ২০২২ সালে নতুন কারিকুলামে পাঠ্যবই দেয়া হবে শিশুদের হাতে। তবে ২০২৩ সালের মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যবই প্রবর্তনের লক্ষ্যমাত্রা বহাল আছে। নতুন বইয়েই ২০২৪ সালে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এবার কয়েক মাস পিছিয়েছে বই ছাপানোর কাজ। তারপরও নতুন বছরের প্রথমদিন স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এনসিটিবি শিক্ষার্থীদের নতুন বই পৌঁছে দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...