এইচএসসি পরীক্ষা হবে, তবে...


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫১

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময় ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হবে, তবে কবে হবে তা নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ১৫ দিন পর পরীক্ষা হবে- এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কবে খুলবে সে ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে খুললে কী কী স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মানতে হবে তা চূড়ান্ত করে এরইমধ্যে মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে। এই গাইডলাইনে ৩১ দফা নির্দেশনা আছে। তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে, ক্লাস শুরুর কমপক্ষে ১৫ দিন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে। ওই ১৫ দিনে করোনা পরিস্থিতিতে ৩১ দফার গাইডলাইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সামাজিত দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তারপর পাঠদান শুরু হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ওপরই আসলে কবে এইচএসসি পরীক্ষা হবে তা নির্ভর করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে না খুলে আলাদাভাবে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেই বলে জানা গেছে। তাই এইচএসসি পরীক্ষা ঠিক কবে হবে তা জানা যাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে খুলবে তা ঠিক হলে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, ‘এইচএসসি পরীক্ষা হবে সেটা নিশ্চিত। তবে কবে হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। সবকিছু যখন স্বাভাবিক হবে তার ১৫ দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা হবে। এখন পর্যন্ত এটাই সিদ্ধান্ত।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যাচ্ছে এরকম একটি ধারণা ছড়িয়ে পড়লেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, ‌‘আমরা বলিনি যে, স্কুলগুলো খুলে যাচ্ছে। স্কুলগুলো যখন খুলবে, তখন সেগুলো কীভাবে চলবে তার একটা গাইডলাইন জারি করেছি আমরা। স্কুল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি৷ কখন স্কুল খুলবে তা-ও বলা যাচ্ছে না।

যদি অক্টোবরে স্কুল খোলে তাহলে একটি পাঠ পরিকল্পনা আছে যার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্লাসের পরীক্ষা হবে। যদি নভেম্বরে খোলে, তাহলেও একটি পাঠ পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এরপর হলে ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষা আর হবে না। পরবর্তী শ্রেণিতে অটো প্রমোশন দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই ছুটি বাড়িয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। তাই এই মাসে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না তা নিশ্চিত।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে ও পরে যেসব ব্যবস্থা নিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে নিরাপদ পাঠদান শুরুর ১৫ দিন আগে স্কুলগুলো শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য খুলে দিতে হবে। এরপর স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত ওয়াশরুম, সাবান ও পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে শিফট বাড়াতে হবে। আবার অল্টারনেট ডে তেও শিফট করা যেতে পারে। স্কুলে কোনো ধরনের জটলা করা যাবে না। শরীরে তাপমাত্রা মাপা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

জানা গেছে, যদি দেশের সব স্কুল এক সময়ে খুলে দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে অঞ্চল ভেদে পরিস্থিতি বিবেচনা করে খুলে দেয়া হতে পারে৷ তবে খুলে দেয়ার আগে আগে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে হবে। খুলে দেয়ার পরও এই কর্মসূচি চালাতে হবে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখন খুলে দেয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে। টেকনিক্যাল কমিটি মনে করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

প্রতিবছর গড়ে ১২ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উদ্বেগের মধ্যে এখন দিন পার করছেন।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে





ads







Loading...