রাবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • অ্যাম্বাসেডর, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ৩০ জুলাই ২০২০, ১৫:৩৫

সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জীবনে অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব হলো 'ঈদ-উল আযহা'। এই দিনে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে তাদের প্রাণ। কিন্তু করোনাকালীন ব্যতিক্রমভাবেই উদযাপিত হবে এই ঈদ। ঈদের আনন্দ কিছুটা উপভোগ করতে যে যার মতো করে নিচ্ছে প্রস্তুতি। করোনাকালীন এই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের কেমন চলছে ঈদের প্রস্তুতি? বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে তাঁদের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন- মিনহাজ আবেদিন

আল আমিন বাপ্পী
ইসলামিক স্টাডিজ

মুসলিম উম্মাহর জীবনে অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব ‘ঈদ-উল আযহা'। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রিয় পশুকে কুরবানি করা হয় এই দিনে। করোনাকালীন এই সময়ে ঈদ-উল আযহার আগমণ। একদিকে বিশ্বে করোনার মহামারিতে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, অন্যদিকে করোনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।
বস্তুত এই মহামারিতে সকলের পক্ষে কুরবানি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সামর্থ্যবানদের উচিৎ সমাজের সকল অসহায়দের নিয়ে কুরবানি করা। নামের জন্য কুরবানি না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যেন কুরবানি হয় সেই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখা সামর্থ্যবানদের উচিত।

সর্বোপরি, আমাদের কুরবানি যেন হয় একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। সেই সাথে সমাজের অসহায়দের মাঝে কুরবানির পশুর সুষম বন্টন এবং নিজেকে কোলেস্টেরল মুক্ত খাবার থেকে যথাসম্ভব বিরত রেখে মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া জ্ঞাপনের মাধ্যমে যেন কাটে আমাদের ঈদ।


মুমতা হেনা মীম
অর্থনীতি বিভাগ

ঈদ মানেই আনন্দ। আত্মীয়-স্বজন-আপনজনদের সাথে মিলন মেলা। দিনটিকে নিয়ে সবার মধ্যেই কিছু চিন্তাধারা, পরিকল্পনা কাজ করে। চিন্তা-পরিকল্পনা একে অপরের থেকে ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই, আনন্দের সাথে দিনটিকে উপভোগ করা।

আমার কাছে ঈদ হলো আপনজনের ঘরে ফেরার গল্প, সকলের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার গল্প। এবারের ঈদের গল্পটা সবার কাছেই ভিন্ন। এ বছর আগের মতো কিছুই হবে না। জনসেবায় নিয়োজিত পরিবারের সদস্যরা ঘরে ফিরবে না, ঈদের কেনাকাটা, পরিবার-বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়াটা এবার হবে না। চারদিকে করোনা আক্রান্ত ও বন্যা কবলিত এলাকায় মানুষের হাহাকার! এমন অসুস্থ পৃথিবীতে ঈদ পালন করতে হবে কখনো ভাবতেও পারিনি। এ পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত সবার পাশে থাকা। যথাসম্ভব নিজের অবস্থান থেকে অন্যকে সাহায্য করা।

নির্মমতার করোনাকাল পেরিয়ে নতুন ভোর আসবেই। আমরা সফল হবোই, ইনশাআল্লাহ। শুধু এই সময়টুকু আমাদের সাহস আর ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।


আছিয়া খাতুন
চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে ঈদের সেই চিরচেনা আমেজ। প্রতি মুহূর্তে নতুন সংক্রমণ, নতুন মৃত্যুর খবরে সবাই আতঙ্কিত! এরই মধ্যেই গত হলো পহেলা বৈশাখ ও ঈদ-উল ফিতর। এবার আসছে ঈদ-উল আযহা। সবে মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পদার্পন করেছি। ঈদকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার আনন্দটা যে কেমন তা বাস্তবে উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি ঘাতক এ ভাইরাসের জন্য। এবারের ঈদগুলো যেন অন্যরকম। ঈদে ঘোরাফেরার চেয়ে উল্টো বাড়িতে থেকেই তা পালন করতে হচ্ছে। ভাবছি করোনাকালীন এবারের ঈদের পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাব। আম্মুকে রান্নার কাজে সহযোগিতা ছাড়াও অনলাইনে বন্ধুদের সাথে ঈদের সৌহার্দ্য বিনিময় করবো।


সুমন চৌধুরী
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও করোনার কারণে নেই কোন তোড়জোড়। বিগত বছরগুলোতে পশুর হাট, শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশন, লঞ্চ ঘাটে প্রচুর ব্যস্ততা ও ভীর থাকতো। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্বল্প এবং মধ্যম আয়ের মানুষের উপর। যারা শহরে থাকেন, তারা কোরবানি দিতে পারবে কি পারবে না? জন্ম স্থানে ফিরতে পারবে কি পারবেনা? জবাব নেই অনেকে কাছেই। বিশেষ করে যারা আমার মত ছাত্র তারা যখন এই সময়ে ক্যাম্পাস থেকে আসতো তাদের কাছে ঈদ অনেক আনন্দের ছিল।গরু কিনতে বাজারে যাওয়া, সবার জন্য শপিং করা আর বিশেষ করে মা, বাবার ফোনের আকুতি -'বাবা কবে আসবি বাড়িতে, কোরবানির পশু কিনতে হবে। সবাই ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে যেতাম বন্ধু-বান্ধবসহ। ছোট-বড় সকলের সাথে সাক্ষাৎ হতো কুশলাদি হতো। কিন্তু করোনা আতঙ্কে সব মিলিয়ে এবারের ঈদ আমার কাছে বর্ণহীন ফ্যাকাসে মনে হচ্ছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, পৃথিবী যেন তার আগের চিরচেনা রুপে খুব শীঘ্রই ফিরে আসে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads