পুরস্কারের টাকায় ১৫ শিক্ষার্থীকে সাইকেল দিলেন চেয়ারম্যান

মানবকণ্ঠ
সাইকেল বিতরণ - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৯ জুলাই ২০২০, ১২:৫২

একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নিলীমা রানী। তার বাড়ি থেকে কলেজ ১১ কিলোমিটার দুরে। কলেজ বন্ধ তাই তাকে এখন কলেজে যেতে হচ্ছে না। কিন্তু কলেজ খুললে তাকে যেতে হবে। বাড়ি থেকে কলেজে ইজিবাইকে যাতায়াত করতে যে টাকা খরচ হয় তা গ্রামের দরিদ্র পরিবারের এই শিক্ষার্থী নিলীমা রানী ও তার পরিবারকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল।

নিলীমা রানী মতোই লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের আরও ১৪ শিক্ষার্থীকে সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু।

স্থানীয় সরকার থেকে কর্মদক্ষতার মূল্যায়ণ করে পুরস্কার হিসেবে এক লাখ ১৪ হাজার টাকা পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিজু। তিনি সেই টাকা দিয়ে তিনি ১৫টি সাইকেল কিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন।

গতকাল বুধবার বিকেলে ওই ইউনিয়ন পরিষদে ১৫ কলেজ শিক্ষার্থীর হাতে সাইকেল তুলে দেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রবিউল হাসান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিহানুর রহমান মিজু।

চলবলা ইউনিয়নের ১৫ শিক্ষার্থী এক সঙ্গে সাইকেলে চড়ে কলেজে যাতায়াত করলে সেই দৃশ্য স্থানীয়ভাবে নারী শিক্ষাকে বেগবান করবে বলে অভিমত এলাকাবাসীর। ওই শিক্ষার্থীরা সবাই কাকিনা উত্তরবাংলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ বর্ষের শিক্ষার্থী।

নিলীমা রানী জানান, ৪র্থ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় সাইকেল চালানো শিখেছিল । কিন্তু, পরিবারের সামর্থ্য ছিল না সাইকেল কিনে দেওয়ার। অবশেষে চলবলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাইকেল পেয়ে খুশি। সাইকেলে চড়ে কলেজে যাতায়াত করতে পারবে। পরিবারকে ভাবতে হবে না যাতায়াত খরচ নিয়ে।

বৃষ্টি রায় নামে অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, একটি সাইকেল আমার পড়াশুনার ইচ্ছাকে আরও শক্তিশালী করবে।

একই ইউনিয়নের সোনাহাট গ্রামের একাদশ বর্ষের শিক্ষার্থী আলমা খাতুন বলেন, চিন্তায় ছিলাম কীভাবে কলেজে যাতায়াত করবো। পরিবারের পক্ষ থেকেও খরচ দেওয়া সম্ভব নয়। সাইকেলটি কলেজে যাতায়াত করতে সাহায্য করবে এবং পড়াশুনায় আরও মনোযোগী রাখবে।

চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, যেহেতু আমার ইউনিয়নের ছাত্রীরা কলেজে যাতায়াত নিয়ে দুশ্চিস্তায় ছিল তাই আমার পুরস্কারের টাকা দিয়ে তাদের সাইকেল কিনে দিয়েছি।

কালীগঞ্জর ইউএনও রবিউল হাসান বলেন, গ্রামের নারী শিক্ষার্থীরা সাইকেলে চড়ে এক সঙ্গে কলেজে যাতায়াত করবে। এটা গ্রামে নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করবে। এতে নারী শিক্ষার্থীরা সাহসী হবে এবং পড়াশুনায় তাদের মনোবল আরও দৃঢ় হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে/আসাদুজ্জামান

 





ads






Loading...