ঢাবি ছাত্রী হত্যা, পালিয়েও রক্ষা পেলেন না স্বামী-শ্বশুর

ঢাবি ছাত্রী হত্যা, পালিয়েও রক্ষা পেলেন না স্বামী-শ্বশুর
- সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৫ জুন ২০২০, ১৯:২৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি স্বামী মোস্তাক (৩৫) এবং শ্বশুর জাকির হোসেনকে (৫৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, নাটোর জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে রাজশাহীর বাঘা থেকে মোস্তাককে এবং বগুড়ার নন্দিগ্রাম থেকে শ্বশুর জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকার বাড়ি থেকে শাশুড়ি সৈয়দা মালেকা ও ননদ জাকিয়া ইয়াসমিন জুথিকে গ্রেফতার করে। তখন থেকে পলাতক ছিলেন সুমাইয়ার স্বামী মোস্তাক ও শ্বশুর জাকির হোসেন। আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের ৮টি ইউনিট কাজ করে বলে জানান তিনি।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়ার স্বামী মোস্তাক বেকার অবস্থায় ছিলেন। তাই শ্বশুর বাড়ি থেকে টাকার জন্য সুমাইয়াকে মানসিকভাবে চাপে রাখতেন মোস্তাক। সম্প্রতি চাহিদা মতো টাকা না পেয়ে বেকার মোস্তাক বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু গত বছর বাবার মৃত্যুর পরে সুমাইয়া তার স্ট্রোকে আক্রান্ত মায়ের কাছে টাকা না চেয়ে নিজেই আত্মনির্ভর হওয়ার চেষ্টা থেকে বিসিএসের জন্য প্রস্ততি নিচ্ছিলেন। গত ২৩ জুন সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুমাইয়ার স্বজনদের দাবি ২২ জুন রাতে সুমাইয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এদিকে, গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ হলে সিজিপিএ ৩.৪৪ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন সুমাইয়া। কিন্তু এই ফলাফল পাওয়ার আগেই সুমাইয়াকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, অধিকতর তদন্তের জন্য সুমাইয়ার ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সুমাইয়ার মা নুজহাত বেগম বলেন, আমার মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল। আমি মেয়ে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়ার লাশ ২২ জুন হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...