ঢাবি ক্যাম্পাসে মেট্টো স্টেশনের বিপক্ষে অনেক শিক্ষার্থী

ঢাবি ক্যাম্পাসে মেট্টো স্টেশনের বিপক্ষে অনেক শিক্ষার্থী
ঢাবি ক্যাম্পাসে মেট্টো স্টেশনের বিপক্ষে অনেক শিক্ষার্থী - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • হুসাইন মোতাহার, ঢাবি
  • ১৯ মে ২০২০, ২০:৫৬

রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনের জন্য সরকার মেট্টোরেলের উদ্যোগ নিয়েছে। যার নির্মাণ কাজ চলমান। এই মেট্টোরেল প্রকল্পের একটি স্টেশন হবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় টিএসসি চত্তর সংলগ্ন এলাকায়। তবে, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে মেট্টোরেল স্টেশন হোক তা চান না অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় চারদিক থেকে খোলা থাকায় অনবরত বহিরাগত বিশ^বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছে। যার কারণে বিশ^বিদ্যালয়ে ঘটছে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো নানা ঘটনা। বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসিটিভি থাকা সত্তে¡ও এসব চোর ছিনতাইকারীরা বহিরাগত হওয়ায় তারা থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে মেট্টোরেল স্টেশন হলে তা হবে ক্যাম্পাসের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি টিএসসির নির্মল পরিবেশের জন্য অন্তরায় হবে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে অধিক মানুষের যাতায়াতের ফলে যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। এতে করে বিশ^বিদ্যালয়ে অঞ্চলে বহিরাগত প্রবেশের ফলে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়ে যাবে। তাছাড়া, টিএসসির চত্তরের পাশেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। এখানে মেট্টোরেল স্টেশন হলে ট্রেনের শব্দের কারণে এখানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘœ ঘটতে পারে বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়াও এ কারণে টিএসসি কেন্দ্রীয় নানা সংগঠনের কাজ পরিচালানাও এতে বিঘœ ঘটতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। হলগুলোও ফাঁকা। এ পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়কের পাশের সবগুলো গাছ কেটে ফেলেছে সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য রাস্তা সম্প্রসারণ করতে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ক্যাস্পাস বন্ধের সুযোগ নিয়ে নির্বিচারে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইতিমধ্যে ছাত্র ইউনিয়নসহ কয়েকটি সংগঠন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানববন্ধনও করেছেন। অবশ্য অনেকে ভিন্নমতও পোষণ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে মেট্রোরেল যাওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এখন গাছগুলো কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সামান্য নির্মল পরিবেশ রয়েছে তাও নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মাহমুদ শিহাব বলেন, মেট্রোরেলের কারণে গাছ কেটে ক্যাম্পাসের যে ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, তা বিনষ্ট করা হচ্ছে। পাশাপাশি মেট্রোরেলের কাজের শুরু থেকেই ক্যাম্পাসের ভিতরে নিয়মিত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কখনোই কাম্য নয়। আর টিএসসি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো দেশের মুক্ত চিন্তাধারা চর্চার কেন্দ্র।

তিনি বলেন, টিএসসিতে মেট্রোরেল স্টেশন করা হলে সেটা টিএসসির নির্মল পরিবেশের জন্য অন্তরায় হবে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে অধিক মানুষের যাতায়াতের ফলে যানজট আরো তীব্র হবে। যেহেতু শাহবাগে একটি স্টেশন থাকছে, সেহেতু টিএসসিতে মেট্রোরেল স্টেশন অপ্রয়োজনীয় এবং তা ক্যাম্পাসের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া জান্নাত সারা বলেন, মেট্রোরেল দেশের ভালোর জন্য করছে ঠিক, কিন্তু মেট্রোরেলের কাজ শেষ হলে পরের অবস্থা হবে ভয়াবহ। ক্যাম্পাসে এমনিতেই বহিরাগত আসা বন্ধ করা যাচ্ছে না বা উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। পরিবেশ দূষণের কথা নাইবা বললাম! এমনিতে ধুলাবালির কারণে ক্যাম্পাসে থাকা দায়। আর নির্বিচারে গাছগুলো কেটে ফেলে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট করার সাথে সাথে জীবনীশক্তি হরণ করার মতো হচ্ছে ব্যাপারটা। এই গাছগুলোই কিন্তু ক্যাম্পাসের প্রাণ।

এসব বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি মেট্রো স্টেশন হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগতের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আমরা তখন দেখবো টিএসসিতে ছিনতাই ঘটবে, পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটবে।

তিনি বলেন, পরিবেশের জন্য গাছ আসলে প্রয়োজন। উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে। জনগণের উন্নয়নের জন্য পরিবেশ ঠিক থাকা প্রয়োজন। আমি যতটুকু জানি এখানে যে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেখানে সবগুলো গাছ কাটার দরকার ছিল না। কিছু গাছ কাটা দরকার আছে, সেগুলো কাটতে হবে সেটা নিয়ে আমি বলতে চাই না। আমি মনে করি, যেভাবে নির্বিচারে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেভাবে কাটা ঠিক হয়নি।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.আখতারুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন। এটা জাতীয় কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী টিএসসির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যা করা লাগবে, তা তিনি করবেন। এ বিষয়ে তিনি স্বতন্ত্র একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যা করা দরকার তিনি করবেন, আবার জাতীয় কাজও করবেন।

গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় কাজের জন্য যেটা লাগবে, সেটা কাটতে হবে। জাতীয় কাজের বাইরে একটি গাছ কাটলেও আমি ব্যবস্থা নেবো। মেট্টোরেল জাতীয় কাজের জন্য যা করা দরকার তা তো তারা নেবেই। মেট্টোরেলের জন্য যদি বিল্ডিং ভাঙ্গা লাগে তারা সেটিও করবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...