• শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

ঢাবিতে আলোচনার কেন্দ্রে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

ঢাবিতে আলোচনার কেন্দ্রে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা’ - সংগৃহীত

poisha bazar

  • হুসাইন মোতাহার, ঢাবি
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৫,  আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৫৩

চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মানবিক, ব্যবসায় ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রশ্নপত্রে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে ১৯৭৩ এর আদেশে পরিচালিত চারটি স্বায়ত্তশাসিত  বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আভাস পাওয়া গেলেও তারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক (অফিসিয়ালি) কোনো কথা বলেননি।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবের ইতিহাস। চলে তার নিজস্ব আইনে।

তবে, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে আঘাত আসতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গণতান্ত্রিক, স্বায়ত্তশাসিত এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, উৎকর্ষতা, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার রূপকল্পের সাথে সাংঘর্ষিক।

এ নিয়ম বাস্তবায়ন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তে পারে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

শিক্ষার্থীদের মানবিক দিক বিবেচনায় শিক্ষকদের একাংশ জানিয়েছেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পরে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়। ভর্তি পরীক্ষার জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হয়। সারাদেশে দৌড় ঝাঁপ করতে হয়। যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সাথে একমত হয় তাহলে কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে। শিক্ষার্থীদের মানবিক দিক বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া।

শিক্ষকদের আরেক অংশ জানিয়েছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে পরীক্ষা নিবে এটা তার নিজস্ব এখতিয়ার। মেডিকেল কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় এক নয়। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়েছে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে সেই স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবে। কারণ, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ঘনীভূত করবে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে স্বায়ত্তশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি গুচ্ছ পরীক্ষায় যোগ দেয় তাহলে ইউজিসির প্রভাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্তার করতে পারে যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হুমকি বলে আমার মনে হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, বাইরের দেশের পরীক্ষা আমাদের দেশের পরীক্ষা এক নয়। আমাদের দেশে অনেক সময় আমরা দেখি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এর সাথে অনেক শিক্ষকও জড়িত থাকে। তবে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলে তিন থেকে চার লাখ শিক্ষার্থী একসাথে পরীক্ষা দিবে। এই পরীক্ষাটি ঢাকাসহ বাইরেও পরিচালিত হবে তাই দেখা যাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সম্ভাবনা কম থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের টাইম, কষ্ট, টাকা বাঁচবে।’

ডাকসু এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, উৎকর্ষতা, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার রূপকল্পের সাথে সাংঘর্ষিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গণতান্ত্রিক, স্বায়ত্তশাসিত এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার জন্য ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ১৯৬১ সালের কালাকানুন বাতিলের প্রয়োজনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লড়াই-সংগ্রাম করেছে, বঙ্গবন্ধু তাই উপহার দিয়েছেন এ আইন স্বাধীনতার পরপরই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির উদ্যোগে এর মাঝেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, অনেকগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়ায় পরীক্ষার সংখ্যা কমে এসেছে বা একটা পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মধ্যে এসেছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ভর্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিবে একাডেমিক কাউন্সিল। আলোচনা চলছে।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...