বহিরাগতের হাতে ইবি শিক্ষক লাঞ্ছিত

বহিরাগতের হাতে ইবি শিক্ষক লাঞ্ছিত
আটক যুবক - ছবি: প্রতিনিধি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৬,  আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৯

ভবনের অভ্যন্তরে ঢুকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে এক বহিরাগত যুবক। এই ঘটনার পরপরই তাকে আটক করে প্রক্টরের মাধ্যমে ইবি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বিষয়টি নিশ্চিত করেছন।

বহিরাগত ওই যুবকের নাম আলমগীর হোসেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। সে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী (ড্রপ আউট) বলে দাবি করে। তবে তিনি আসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে (২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে) ভর্তি হয়েছিলেন কিনা তা কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়নি।

সূত্র মতে, সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের তৃতীয়তলায় যায় ওই যুবক। পরে নিজের চেম্বারের সামনে দাড়ানো অধ্যাপক জাহাঙ্গীরকে আচমকা কিল-ঘুষি মেরে পালিয়ে যায় সে। পরে বিষয়টি টের পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে।

অভিযুক্তের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি একেক সময় একেক পরিচয় দেন। এ সময় তিনি নিজেকে যশোর সদর থানা পুলিশের এএসআই, ব্যাংক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী প্রভৃতি পরিচয় দেন। তবে ইবি থানা পুলিশ তাকে মানসিক রোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তবে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার কারণ এখনো নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ভবনের করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ সে আমার উপর চড়াও হয় এবং কিলঘুষি মারতে থাকে। আমরা একাডেমিক কমিটির (বিভাগের) মিটিং করে প্রশাসনের নিকট তার শাস্তির দাবি জানিয়েছি। ওই যুবক তার পূর্ব পরিচিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে আমি চিনি না।

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ঢুকে বহিরাগত কতৃক শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন ভবন থেকে মিছিল বের করে তারা। পরে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে জড়ো হয়। এ সময় ‘আমাদের শিক্ষক লাঞ্ছিত কেন-প্রশাসন জবাব চাই’ ক্যাম্পাসে বহিরাগত কেন-প্রশাসন জবাব চাই’ সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের কারণে ক্যাম্পাস দিন দিন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। বিকেলে ক্যাম্পাসে বের হলে তাদের কারণে চলাফেরা করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এছাড়া বগিরাগতরা মাদক সেবনের জন্য ক্যাম্পাসকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, অভিযুক্ত আলমগীরকে ইবি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

ইবি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ গঠন করে মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...