ভিপি নুরের কথিত 'আন্টির' খোঁজে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ভিপি নুরের কথিত 'আন্টির' খোঁজে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য!
ভিপি নুরের কথিত 'আন্টির' খোঁজে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য! - প্রতীকী ছবি।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২০,  আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের টেলিফোন কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যেখানে ভিপি নুরকে জনৈক এক প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে তদবির এবং প্রবাসী এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে।

ফাঁস হওয়ার পর ফোনালাপের কণ্ঠটি নিজের বলে স্বীকার করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, আমার আন্টির কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা আছে। তার একটি কাজের ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়ার সময় শেষের দিকে ছিল। সময় শেষের মাত্র দু’দিন আগে ফোন দিয়ে তিনি জানান যে- আমি কাউকে দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি করিয়ে রাখতে পারব কি না। তখন আমি আমার পরিচিত একজন যিনি কনস্ট্রাকশন ব্যবসায় জড়িত, তাকে বলেছিলাম যে এরকম ১৩ কোটি টাকার কাজের ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে পারবে কি না। আমার আন্টির সঙ্গে এরকম অনেক কথা হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার পর নৈতিক স্খলনের দায়ে ভিপি নুরের পদত্যাগ দাবি করেছেন ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানি। তবে পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নুর। এদিকে যাকে ঘিরে এত সমালোচনা সেই আন্টির বিষয়ে খোঁজ নিয়েছে মানবকণ্ঠ। খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরুর কথিত এই আন্টির নাম রেনু আক্তার। তিনি নুরের আপন মামা নান্নু মোল্লার স্ত্রী নিলুফার সৎ বোন। এই পরিচয়ে নুর রেনুকে খালা ডাকে।

বিচিত্র জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই রেনু আক্তারের। কর্মজীবনের শুরু করেন দক্ষিণ-পশ্চিম চরবিশ্বাস রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন বিবাদে জড়িয়ে ২০০০ সালে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়ার। এরপরেই তিনি শুরু করেন ঠিকাদারি ব্যবসা। ডিসির মাধ্যমে রেনু সরকারি প্রকল্প গুচ্ছ গ্রামের কাজ পান ও নিজেকে ঠিকাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিসির সঙ্গে সখ্যতা থাকলেও পরে তিনবার বিয়ের পিড়িতে বসেন নুরুর আন্টি রেনু আক্তার। ১ম স্বামীর কোন পরিচয় পাওয়া না গেলেও দ্বিতীয় স্বামী মিল্টন তালুকদারের ঔরসজাত সন্তান রয়েছে তার। সিয়াম আহমেদ (১৯) নামে তার সেই পুত্র ঢাকার নটরডেম কলেজে ১ম বর্ষে পড়াশোনা করে। ঠিকাদারির ব্যবসায় ছেলের ভরনপোষণ রেনু আকতার করেন।

রেনু আকতারের বর্তমান স্বামী জাকির হোসেন। যিনি বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের তহশিলদার হিসেবে কর্মরত আছে এবং তিনি তার স্ত্রী রেনুর চেয়ে ১০ বছরের ছোট।

পারিবারিকভাবেও নানা বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রেনুর পরিবারের সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চার ভাইয়ের সংসার রেনুর। তার প্রত্যেক ভাইয়ের নামেই রয়েছে কমবেশি অভিযোগ।

রেনুর ভাই কালামের বিরুদ্ধে নিজগ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্কুল ছাত্র ফরিদ হত্যা মামলা রয়েছে। মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। মামলা নং ১৫৭১/২০১১। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির শুনানি হচ্ছে না। তার আরেক ভাই আনোয়ার পার্বত্য চট্টগ্রামে আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তৃতীয় ভাই শাহাদাত কৃষিকাজ করেন। এছাড়া তার চতুর্থ ভাই শাহীন সেনাবাহিনী হতে বরখাস্ত/পালিয়ে আসা।

জানা যায়, তার ৩ ভাই কালাম, শাহাদাৎ ও শাহীন এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম সঙ্গে জড়িত রয়েছে। স্থানীয় খাস জমি দখল, জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল, মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জবরদস্তি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সাধারণ থেকে অসাধারণ জীবনের অধিকারী রেনু রাজনীতিতেও ভোল পাল্টেছেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে সবশেষ যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগে। জানা যায়, রেনু চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন এবং ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন যদিও পরে মনোনয়ন বাতিল করে মতিউর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তবে মতি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিল। এছাড়াও রেনু ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

পরে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ শাহীনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগদান করে।

ঠিকাদারি কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে। ঠিকাদার হিসেবে তার ৯টি কাজের তথ্য পাওয়া গেছে। যার মধ্যে চর আগষ্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কে আলী কলেজ ও বদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাজ চলমান রয়েছে। যদিও চর আগষ্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কে আলী কলেজের কাজ নিয়ে কতৃপক্ষের অসন্তুষ্টি রয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে চর আগষ্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের কাজটি নিম্নমানের হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়া টিউবওয়েলের কাজটি সম্পন্ন হয়নি বিধায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুলটি বুঝে না নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাসের কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে রেনু আক্তারের তৈরি করা বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে। কে আলী কলেজের সিঁড়ির দেয়ালে ছোট ও চিকন ফাটল দেখা গেছে। ২০১৮ সালে হস্তান্তর করা জনতা সাইক্লোন শেল্টারের বেশ কিছু জায়গায় পানি চুইয়ে নোনা ধরার তথ্য পাওয়া গেছে। রেনুর বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি নিজের অনুগতদের নামে বন্দোবস্ত নিয়ে পরবর্তীকালে নিজে ভোগদখল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এসব বিষয়ে জানতে রেনু আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে অভিযোগের বিষয় এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, আমি গাড়িতে আছি। আধা ঘণ্টা পরে কথা বলব। এরপর আধা ঘণ্টা, ১ ঘণ্টা ও ২ ঘণ্টা পর আবার কল দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মানবকণ্ঠ/এআইএস/এফএইচ




Loading...
ads






Loading...