বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে উদ্যোক্তা পৃষ্ঠপোষক কার্যক্রমের উদ্বোধন

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে উদ্যোক্তা পৃষ্ঠপোষক কার্যক্রমের উদ্বোধন
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে উদ্যোক্তা পৃষ্ঠপোষক কার্যক্রমের উদ্বোধন - ফাইল ফটো

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪২

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, সরকার চায় তরুণ উদ্যোক্তারা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে সফল উদ্যোক্তা হবে। একজন উদ্যোক্তা সফল হলে বহু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেজন্য সরকার প্রযুক্তি নির্ভর তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দেবে। ২০২১ সালের মধ্যে এক হাজার স্টার্টআপ তৈরিতে সরকার সহায়তা করবে। সফল উদ্যোক্তারাই গড়বে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সেজন্য বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি তরুণ উদ্যোক্তা পৃষ্টপোষক’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন গ্রামীনফোনের সিইও জনাব মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান জনাব কাজী জামিল আজহার। এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সিইও, ইউএস মার্কেট এক্সেস, ক্রিস বারি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, স্টার্টআপ অ্যাকসেলারেটর, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপদেষ্টা টিনা জাবীন। তরুণ উদ্যোক্তা পৃষ্ঠপোষক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বে উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক লালন ও তাদের সহায়তা প্রদান এবং এর মাধ্যমে ইকো ব্যবস্থায় অংশ্রগ্রহণকারী সকল বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও পেশাদারের মধ্যে আ লিক এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্টার্টআপ হিসেবে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছে। এরপর হয়ত ১৫০টি ইউনিভার্সিটি স্টার্টআপ নিয়ে আসবে, কিন্তু বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির মতো প্রথম হতে পারবে না। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির স্টার্টআপ থেকে হয়ত ভবিষ্যতে মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ তৈরি হবে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এর আগে থ্রি-ডি প্রিন্টার, ই-হার্ট, নাগরিকের মতো জনকল্যাণমুখী অ্যাপ তৈরি করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি বাংলাদেশে ইউনিভার্সিটিতে ল্যাব করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি স্টার্টআপকে ৩১তম স্টার্টআপ হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করার ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উদ্যোক্তা পৃষ্টপোষক বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যার প্রভাব সুদূর প্রসারী। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট নতুন উদ্ভাবক-উদ্যোক্তাগণ দিক-নির্দেশনা পাবেন। যার ফলে তারা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে ও ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অপার সম্ভাবনার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। প্রবন্ধে উপস্থাপিত কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশেষ অতিথি মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি এ উদ্যোক্তা-পৃষ্ঠপোষক কার্যক্রমের সাথে নাগরিক সমাজের সংযোগ সাধনের উপর গুরুত্বারোপ আরোপ করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশকে উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার আলোচিত কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং প্রতিশ্রæতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি তার সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা

প্রদান করে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি জিডিপিতে ৪০ শতাংশ অবদান রাখে। এখানে স্টার্টআপের বেশি প্রয়োজন। শুধু বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি নয় সবার জন্য এ সুযোগ উন্মুক্ত। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ক্রিস বারি সিলিকন ভ্যালির দ্রুত উত্থানশীল প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৩৭টি দেশে ১০০টির অধিক এ ধরনের অনুষ্ঠান পরিচালনা করে উদ্ভাবক-উদ্যোক্তাদের জন্য ৬০৫ মিলিয়ন মার্কিল ডলার সংগ্রহে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছি। তিনি অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার উপায়, ব্যবসা সম্প্রসারণ, মূল্যায়ন, ব্যবসায়ে লাগাতার প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের গুরুত্ব, ব্যবসা প্রদর্শনীর আয়োজন ইত্যাদি বিষয়ে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের বুট ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নতুন উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা ছাড়াও ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার, ইউএনডিপি’র প্রতিনিধি, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, সকল বিভাগীয় প্রধান এবং ইউনিভার্সিটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার ছিলেন নাগরিক টিভি, কালেরকণ্ঠ, বার্তা২৪, টার্টেল ভেনচার, রেড ক্যানভাস, ইয়ুথ কো:ল্যাব, ডিজিটাল খিচুরী চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশ এ্যাঞ্জেলস্, জিপি অ্যাকসেলারেটর, উইমেন এন্ড ই-কমার্স এবং পপ অব কালার।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...