জাবি ভিসির অপসারণ ও বরখাস্তের দাবি আন্দোলনকারীদের

জাবি ভিসির অপসারণ ও বরখাস্তের দাবি আন্দোলনকারীদের
জাবি ভিসির অপসারণ ও বরখাস্তের দাবি আন্দোলনকারীদের - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:১৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে তার পদ থেকে অপসারণের পাশাপাশি শিক্ষকতার চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

তাদের দাবি, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে ভিসি প্রথমে এই পদে থাকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছেন। আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপর হামলা ঘটিয়ে তিনি শিক্ষক হিসেবে পাঠদানের নৈতিকতাও হারিয়েছেন।

বুধবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের আয়োজিত ‘সংহতি সমাবেশে’ এ দাবি জানান শিক্ষকরা।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, ‘‘চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছি কিন্তু কখনো বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে নামানোর প্রয়োজন হয়নি! এখন কেন হলো? গতকালের ঘটনার আমি ব্যথিত হয়েছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছিত হওয়ার পর উপাচার্য এটিকে গণঅভ্যুত্থান বলেছে। এটি আসলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষক হিসেবে দুর্ভাগ্য। জাহাঙ্গীরনগরকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার আপনার সকলের। এর আগে এই আন্দোলনের সঙ্গে আসিনি কারণ নিজেকে বোঝাতে পারিনি কিন্তু এখন পেরেছি। অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু তদন্ত না বরং তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।’’

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের মিছিল থেকে হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়।

এ সময় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ মঞ্চের অন্যতম সমন্বয়ক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত অবশ্যই হবে। এখন অপেক্ষা তিনি শিক্ষক হিসেবে থাকবেন কিনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তা কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যখন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে করছিলেন, তখন সেখানে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিলেন। তারপর আবার ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দিলেন! এই ঘটনার পর অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার পদে বহাল থাকতে পারেন না।’’

শিক্ষার্থী তাপসী প্রাপ্তি দে বলেন, ‘‘গতকাল হলে তালা মেরে বন্ধ করে রাখা হয়; যাতে করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিতে না পারে। আমরা এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’’

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, অধ্যাপক কবিরুল বাশার, অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি।

এদিকে, চলমান আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বিকেলের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে জাবি কর্তৃপক্ষ। তবে সেই নির্দেশ প্রত্যাখান করে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আজকের চলমান আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ব্যাপক সংখ্যক ছাত্রীরাও।

এর আগে সোমবার রাত থেকে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। পরে সেখানে পাল্টা অবস্থান নেন উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার পর উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ও বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর হল ছাড়ার সময়সীমা কয়েক দফায় পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে হল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। তবে আন্দোলনকারীরা হল খালি করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তারা উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে ফের আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংহতি সমাবেশ করেন।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...