প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা এখনই দশম গ্রেড পাচ্ছেন না

মানবকণ্ঠ
ছবি - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৫৪,  আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০১

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা আপাতত দশম গ্রেড পাচ্ছেন না। তাদের ১১তম গ্রেডই দেয়া হচ্ছে। আর সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেড। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ উচ্চ পর্যায়ের পদগুলো আপগ্রেড হলে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেয়া হবে। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক সচিব এর সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘আপাতত প্রধান শিক্ষকদের ১১তম আর সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড দেয়া হবে। আমরা নতুন নিয়োগ বিধির সুপারিশ করেছি। ওই নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন হলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারদের পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীত হবে। সেটা হলেই আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের স্কেল আপগ্রেড করে ১০ম গ্রেড করতে পারবো।’

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ‘নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বিধি ১৯৮৫’ সংশোধনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন বিধিমালায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নবম গ্রেড দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ পদে সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে পদায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পদ সপ্তম গ্রেড করা হয়েছে। পদটি পুরোপুরি পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। বিধিতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পদও আপগ্রেড করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য আলী আজম বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিবেচনাধীন আছে। শিগগিরই এর একটা সুরাহা হবে।’ মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ বৈঠকে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে গঠিত সংসদীয় সাব কমিটির সর্বশেষ কার্যক্রম কমিটিতে তুলে ধরা হয়।

জানা গেছে, বৈঠকে সাব কমিটির একাধিক সদস্য মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাবঞ্চিত ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের (১৫+) ৬ মাসের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে নিজের নাম লেখাসহ স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন (পত্রিকা পড়ার মতো) করে তোলার কথা থাকলেও সেটা আদৌ হচ্ছে না। কাক্সিক্ষত ফল লাভ না হলেও চলমান প্রকল্পের অর্ধেক টাকা ইতোমধ্যে ছাড় হয়েছে। বাকি টাকা ছাড়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সাব কমিটি এসব প্রকল্প এলাকার শিক্ষাকেন্দ্রগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেবে। এর আগে টাকা ছাড় না দেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব কমিটির সদস্য আলী আজম বলেন, ‘আমরা সাব কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছি। সবগুলোতে সম্ভব না হলেও আমরা দৈবচয়নের মতো করে কতগুলো কেন্দ্রে যাব। তারপর সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দেব। আমাদের প্রতিবেদন না দেয়ার আগে তাদের টাকা ছাড় না দিতে বলা হয়েছে।’

বৈঠকের বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের ৬৪ জেলায় চলমান মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কার্যক্রমের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে তদারকির মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে বৈঠকে।

প্রসঙ্গত, কমিটির আগের বৈঠকে (১৮ সেপ্টেম্বর) মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। ওই সাব কমিটিকে দেশের চলমান মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কার্যক্রম ও নিকটস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী রিডিং পড়তে পারে কিনা, সেই বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের অধীনে দেশের ৬৪ জেলার ১৩৪টি উপজেলার ২১ লাখ শিক্ষার্থীকে স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন করে তোলার কথা রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর তত্ত¡াবধানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও) এসব শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে সভাপতি প্রার্থীর সন্তানকে অবশ্যই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে। স্থায়ী কমিটি এই সুপারিশ করেছে।

এদিকে বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, কমিটির আগের সুপারিশ অনুযায়ী এসএমসির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করার বিষয়ে শিগগিরই আদেশ জারি হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান। নতুন জাতীয়করণ করা স্কুলে এসব শিক্ষককে পদায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, মেহের আফরোজ, নজরুল ইসলাম বাবু, ইসমাত আরা সাদেক, শিরীন আখতার, আলী আজম এবং ফেরদৌসী ইসলাম অংশ নেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 






ads
ads