যোগ্যতা হারালে এমপিও বাতিল: শিক্ষামন্ত্রী

এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০০,  আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৪৬

একযোগে সবশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষকরা। তাদের আন্দোলনের মুখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ গণভবনে প্রায় তিন হাজারের মতো প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়ার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরো পড়ুন: এমপিওভুক্ত হলো ২৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 

গতকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। যোগ্যতা ধরে রাখতে না পারলে এমপিওভুক্ত (মাসিক অর্থ ছাড়) প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এবার ২ হাজার ৭৬৮টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বশেষ এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল আট বছর আগে ২০১০ সালের ১৬ জুন। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন. যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতি বছরই এমপিওভুক্ত করা হবে। মানদণ্ড ঠিক না থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও হারাবে।


২০১০ সালে সারাদেশের এক হাজার ৬০৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি) এমপিওভুক্তি করা হয়। প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী তখন সরকারি বেতনের আওতায় এসেছিল। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৬ হাজারের বেশি। এগুলোতে কর্মরত প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতি মাসে বেতন ও কিছু ভাতা সরকার দিয়ে থাকে। এমপিওভুক্তি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি কর্মসূচি।


এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষাবোর্ড স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে সাড়ে ৫ হাজারের মতো। এখানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৮০ হাজারের মতো শিক্ষক-কর্মচারী। গত বছরের জুলাইয়ে জারি করা এমপিও নীতিমালা অনুসারে, এমপিওর জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে ২ হাজার ৭৬২টি। এর মধ্যে বিদ্যালয় ও কলেজ ১ হাজার ৬২৯টি, মাদরাসা ৫৫১টি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান ৫৮২টি।


এমপিওভুক্তির নীতিমালা-২০১৮-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান বাছাই করার পর দেখা যায়, সারাদেশের ৮৯টি উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সমতার স্বার্থে এসব উপজেলায় এমপিওভুক্তির নীতিমালার ২২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।


ওই ধারায় বলা হয়েছে, ‘শিক্ষায় অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাবে অসুবিধাজনক, পাহাড়ি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, নারী শিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।’


নীতিমালার এ ধারা প্রয়োগ করে ৮৯টি উপজেলার মধ্যে এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ন্যূনতম ১০০ জন এবং কমপক্ষে দুই বছরের স্বীকৃতি থাকার বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বাদ পড়া প্রতিটি উপজেলা/থানা থেকে একটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। এই মানদণ্ডে ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে।


বিশেষ বিবেচনায় বাছাই করা হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার ভ‚রুঙ্গামারী উপজেলার ছিটমহলের একমাত্র স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মইদাম কলেজ’Ñ যেটির ছাত্র সংখ্যা ৮৫ জন। ২২ ধারা প্রয়োগ করে মোট ৬১টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে।


এ ছাড়া দেশের দুর্গম ও পার্বত্য এলাকা, পাহাড়ি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল এবং উপক‚লীয় এলাকায় নীতিমালার ১৪ ধারা অনুসারে এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, এমন ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫০০ জন বা তার বেশি এবং কমপক্ষে দুই বছরের স্বীকৃতি থাকার শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।
জানা গেছে, এমপিওভুক্তির জন্য চ‚ড়ান্ত করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৫১টি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০০২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৭টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৯৪টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ এবং ৫৩টি ডিগ্রি (অনার্স-মাস্টার্স) পর্যায়ের।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এমপিওভুক্তির জন্য মোট আবেদন জমা পড়েছিল ছয় হাজার ১৪১টি। এগুলো থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ওই তালিকা চ‚ড়ান্ত করা হয়। আর শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এমপিওভুক্তির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হয় চার হাজার ৪৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

যোগ্যতা হারালে এমপিও বাতিল : শিক্ষামন্ত্রী

যোগ্যতা ধরে রাখতে না পারলে এমপিওভুক্ত (মাসিক অর্থ ছাড়) প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এখন থেকে নতুন-পুরনো সব প্রতিষ্ঠানকে নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। যারা ব্যর্থ হবেন তাদের এ আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।


গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এমপিওভুক্তি কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।


তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে এমপিভুক্ত হওয়াসহ সব প্রতিষ্ঠানকে এ নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মান ধরে রাখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এতে ব্যর্থ হলে তাদের এমপিও স্থগিত করা হবে। আবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে আবারো এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এমপিও পেয়ে গেছে ভেবে হাল ছেড়ে দিলে তারা বিপদে পড়বেন।


ডা. দীপু মনি বলেন, বরাবরের মতো উন্নতি করতে হবে। পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। সব বিভাগের প্রতিষ্ঠানকে নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, কিন্তু এখন থেকে এমপিওভুক্তি পরপর সেগুলোকে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হবে। নতুনভাবে প্রায় সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা এমপিওভুক্তি করতে তালিকা চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী এ তালিকা প্রকাশ করবেন। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলতি বছরের জুলাই থেকে সরকারি অর্থ সুবিধা দেয়া হবে।


তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও শিক্ষার মান বাড়াতে নতুনভাবে মনিটরিং ব্যবস্থা বাড়ানো হবে। অনেক সময় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অযাচিত হস্তক্ষেপ হয়, সেগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন আসছে, এ বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস (নির্ধারণ) করে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রতিবছর এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চলমান থাকবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর যোগ্য বলে বিবেচিত হবে তাদের এমপিওভুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানকে পিছিয়ে থাকবে তাদের সহযোগিতা করে এগিয়ে আনা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা অর্জন হলেই এমপিওর আওতায় আনা হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads





Loading...