ফেসবুক মেসেঞ্জারে আবরাকে হত্যার আগে খুনিদের কথোপকথন


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৭,  আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১৪

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনার আগে আসামিদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে ফেসবুক ‘ম্যাসেঞ্জারে’ কথা বলেছেন। ফাহাদকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের ফেসবুক গ্রুপ মেসেঞ্জারে গোপন কথোপকথনে বিষয়টি উঠে এসেছে। ছাত্রলীগের নেতারা মেসেঞ্জারে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন। আবরার নিহত হওয়ার আগে-পরে তারা সেখানে কথা বলেছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশ সেই তথ্য পেয়েছে।

আবরার ফাহাদকে হত্যা করার আগে ও পরে আসামিদের ফেসবুক গ্রুপ মেসেঞ্জারে কী কথোপকথন হয়েছিল তা হুবহু তুলে ধরা হলো—
বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবীন শনিবার দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে এই গ্রুপে লেখেন, ‘১৭-র আবরার ফাহাদ। মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত। এর আগেও বলেছিলাম। তোদের তো দেখি কোনো বিকার নেই। শিবির চেক দিতে বলেছিলাম।’
মেহেদী হাসান এই কথা লেখার পর মনিরুজ্জামান লেখেন, ‘ওকে ভাই।’
তখন মেহেদী আবার লেখেন, ‘দুই দিন টাইম দিলাম।’
মনিরুজ্জামান আবার লেখেন, ‘ওকে ভাই।’
এরপর মেহেদী মেসেঞ্জারে মনিরুজ্জামানকে ১৬ তম ব্যাচের মিজানের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন।
মেহেদী লেখেন, ‘দরকারে ১৬ ব্যাচের মিজানের সাথে কথা বলিস। ও আরও কিছু ইনফরমেশন দেবে শিবির ইনভলভমেন্টের বিষয়ে।’
এর পরের দিন রোববার রাত ৭টা ৫২ মিনিটে মনিরুজ্জামান মনির মেসেঞ্জারে ওই গ্রুপে লেখেন, ‘নিচে নাম সবাই।’
এরপর শাহীন লেখেন, ‘ওকে ভাই।’
শওকত লেখেন, ‘ওকে ভাই।’
মেসেঞ্জারে আবু নওশাদ সাকিব লেখেন, ‘আবরার ফাহাদ কী হলে আছে?’
জবাবে শামসুল লেখেন, ‘হ ভাই। ২০১১ তে’। তখন নওশাদ লেখেন, ‘২০১১ তে আছে।’
মেসেঞ্জার গ্রুপে রাত ১টা ২৬ মিনিটে একজন লেখেন, ‘আবরার ফাহাদকে ধরছিলি তোরা?’
জবাবে ইফতি মোশাররফ ফেসবুক মেসেঞ্জারে লেখেন, ‘হ।’
এরপর একজন লেখেন, ‘বের করসস।’
জবাবে মোশাররফ লেখেন, ‘কী? হল থেকে নাকি স্বীকারোক্তি?’
একজন লেখেন, ‘স্বীকার করলে তো বের করে দেওয়া উচিত।’
জবাবে ইফতি মোশাররফ লেখেন, আবরার ফাহাদ মরে যাচ্ছে।
ইফতি লেখেন, ‘মরে যাচ্ছে। মাইর বেশি হয়ে গেছে।’

প্রসঙ্গত, সদ্য স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন ফাহাদ। এরপর গত রোববার রাত ৮টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নেয়া হয় তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (সপ্তদশ ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরারকে। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে ফিরেছিলেন। এরপর রাত ২টার দিকে হলের সিঁড়িতে আবরারের লাশ পাওয়া যায়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সবশেষ বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার হয়েছেন অন্যতম সন্দেহভাজন ও বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা। এ পর্যন্ত যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

মানবকণ্ঠ/এএম

 




Loading...
ads




Loading...