সরকারি বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নাজমুল হক, মাদারীপুর


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৪৭,  আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪৭

মাদারীপুর শহরে অবস্থিত দু'টি ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। একটি সরকারি ডনোভান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, অন্যটি সরকারি ইউনাইটেড ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। এই দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে ভর্তি বাণিজ্য, জেএসসির অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়, অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পূর্বানুমতি না নিয়ে অতিরিক্ত শাখা খোলা, ছাত্র হোস্টেলে বসবাসসহ একাধিক অভিযোগ।

অভিযোগ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সরকারি ডনোভান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ৪র্থ, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যে সকল ছাত্রী কৃতকার্য হতে পারেনি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার খাঁ নিয়ম বহির্ভূতভাবে গত কয়েক মাস ধরে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে সেসব বেশকিছু ছাত্রী ভর্তি করেছেন। ছাত্রী প্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্বেও প্রধান শিক্ষক সভাপতির নাম ভাঙ্গিয়ে এ কাজ করেছেন। এছাড়া জেএসসি (অষ্টম শ্রেণি) প্রায় পৌনে ৩'শ পরীক্ষাথীর রেজিস্ট্রেশন করার সময় প্রত্যেক ছাত্রীর কাছ থেকে ১২০ টাকার স্থলে দ্বিগুণ টাকা আদায় করেছেন। বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রীদের টাকার বিনিময়ে উত্তীর্ণ করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ছাত্রীদের দিয়ে জোরপূর্বক গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন। গাইড বই পাঠ্য করার জন্য ৩ লাখ টাকা কমিশন নিয়েছেন।

সম্প্রতি স্কুলের এক সভায় সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ সময় সাধারণ শিক্ষকদের তোপের মুখে পড়ে তিনি এসব অনিয়মের সঠিক জবাব দিতে পারেননি।

এছাড়াও নিয়মিত ক্লাসের তদারকী করার নিয়ম থাকলেও তিনি তা করেন না। গত ১ আগস্ট স্কুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণির বহু ছাত্রীকে অংক ও ইংরেজি বিয়য়ে ফেল দেখানো হয়। পরে অভিভাবকদের তোপের মুখে এসব খাতা পূনমূল্যায়ণ করে তাদের পাস করানো হয়। অনেক অভিভাবক স্কুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা জানলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এসব কারণে শিক্ষকদের চেইন-অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে সরকারি ডনোভান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার খাঁ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

একই ধরণের অভিযোগ উঠেছে সরকারি ইউনাইটেড ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে ভর্তি বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফি আদায়, আর্থিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পূর্বানুমতি না নিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন দুটি শাখা খুলে অতিরিক্ত ২ শতাধিক ছাত্র ভর্তি। এতে পৌর এলাকার বেসরকারি স্কুলগুলো ছাত্র সংকটে পড়েছে। আগামী বছর থেকে তিনি ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে নতুন আরো দু'টি করে শাখা খুলবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যা মন্ত্রনালয়ের বিধি বহির্ভূত। নতুন শাখা খুললে পৌর এলাকার সকল বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আরো শিক্ষার্থী সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বাসা ভাড়ার সরকারী অংশ বাঁচানোর জন্য প্রধান শিক্ষক তার সরকারি বাস ভবনে না থেকে ছাত্র হোস্টেল দখল করে সপরিবারে বসবাস করছেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন আরো অনেক অভিযোগ উত্থাপন করে পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ঢাকা অঞ্চল বরাবরে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক অভিভাবক।

সরকারি ইউনাইটেড ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রনালয়ে স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির একটি শাখা খোলার বিষয় আবেদন করা হয়েছে। আমরা ওই শাখায় ক্লাস শুরু করে দিয়েছি। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান নিয়ে কোন অসুবিধা নেই।’

ছাত্রাবাসে বসবাস করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রাবাসের ভবনটি পরিত্যক্ত পড়েছিল। তিন বছর ধরে আমি সংস্কার করে বসবাস করছি।’

এ ব্যাপারে ওই দুই সরকারি বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনে ফি বাড়তি নেয়া, টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, এসব বিষয়ে আমাকে কেউ কখনো কিছু বলে নাই। আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়গুলো জেনে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এসব দেখার মূল দায়িত্বটা আমাদের মহাপরিচালকের। অনেক ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে ডিজি মহোদয়ের পক্ষে আমি পরিচালক হিসেবে দেখি। স্কুলের ভর্তিসহ অন্যান্য বিষয় জেলা প্রশাসক মহোদয় দেখে থাকেন। আর অতিরিক্ত শাখা খোলার বিষয়টি আমি শুনেছি। শাখা খুলতে হলে আগে মহাপরিচালকের বরাবরে আবেদন করে তার অনুমতি নিতে হবে। মন্ত্রনালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়া শাখা খোলার কোন নিয়ম নেই।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে/নাহ




Loading...
ads





Loading...