বেড়েই চলেছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:৩২

গত আগস্ট মাসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৪.০৭ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২১ সালের আগস্ট মাসের চেয়ে এ বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংকিং খাত থেকে ১৪ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছেন। আগের মাস জুলাইয়ে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, যা অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ছিল ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।

বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকলেও ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো তা নেমে আসে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাপক কমে ২০২০ সালের মে শেষে প্রবৃদ্ধি নামে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তবে পরের মাস জুন থেকে একটু করে বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য আরও বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে তা ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। এরপর মার্চে আবার বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এর পরের মাস এপ্রিলে হয় ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মে মাসে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং জুন মাসে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

অবশ্য মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে যা ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল।

জানা গেছে, করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অধিকাংশ পণ্যের দর বেড়েছে। যে কারণে এখন সব পর্যায়ে খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে নতুন করে অনেকে বিনিয়োগও করছেন। এসব কারণে গত এপ্রিলে এক নির্দেশনার মাধ্যমে চলতি মূলধন খাতে বিদ্যমান ঋণসীমা বাড়ানোর সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীনের জন্য এ নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়।

পরবর্তী সময়ে অবশ্য আমদানি ব্যয় কমাতে গত জুলাইয়ে কিছু পণ্য আমদানিতে ৭৫ থেকে শতভাগ এলসি মার্জিন নির্ধারণ এবং এসব পণ্যে ঋণ দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়ছে।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar