আল-আরাফাহ'র আলোচিত তিন কর্মকর্তা বেপরোয়া


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৪,  আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫১

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার সিন্ডিকেট এখন বেপরোয়া। কমিশন ভিত্তিতে তারা যে কারো কালো টাকা বিশ্বের যেকোনো দেশে পাঠাতে পারদর্শী। এই সিন্ডিকেটে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

বিভিন্ন ব্যবসায়িক গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকায় পাচার হয়ে থাকে। বিশেষ করে বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জাল দলিলপত্র ও ভুয়া মর্টগেজ দিয়ে নানা কৌশলে ঋণ নিয়ে এসব টাকা পাচার করা হয়।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী তিন সদস্য হলেন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক খিলক্ষেত শাখার তিন কর্মকর্তা ম্যানেজার জাহিদ হোসেন, সেকেন্ড অফিসার মাসুদ পারভেজ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবু নাঈম।

সূত্রমতে, শুধু টাকা পাচারের কমিশন দিয়ে একেকজন কোটি কোটি টাকার মালিক। শুধু পাচার নয়, তৈরি করা জাল দলিলপত্র ও অদৃশ্য মর্টগেজ দিয়ে এই তিন কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যাংকটির এই শাখা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

ব্যাংকের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এসব পুকুরচুরির বিষয় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবহিত রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের মধ্যে একাধিকবার কথাও হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব ভুয়া ঋণের বিষয়ে তদন্তের কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। অথচ বিভিন্ন পর্যায় থেকে মর্টগেজ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং দলিলপত্র সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে বলা হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এ নিয়ে ব্যাংকটির সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই এই ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করছেন। বিষয়টি ব্যাংকের তদারকি সংস্থার নজরে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের তরফেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

 


poisha bazar

ads
ads