বিদেশে টাকা পাচারে আল-আরাফাহ্'র খিলক্ষেত শাখার ৩ কর্মকর্তা জড়িত


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০০,  আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩২

জাল দলিলপত্রে ঋণ দেখিয়ে নানা কৌশলে গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক থেকে। করোনার অজুহাতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনেকেই এখন বিদেশে আয়েশী জীবন যাপন করছেন। আর গা ঢাকা দিয়েছে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরিকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঋণের নামে টাকা সরানোর কৌশলে ব্যবহার করেছে নির্দিষ্ট কিছু শাখাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খিলক্ষেত শাখা।

এই শাখার শীর্ষ তিন কর্মকর্তা ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার মাসুদ পারভেজ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবু নাঈম এই অপকর্মের হোতা বলে জানা গেছে। এদের মাধ্যমেই ব্যাংকটির হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আশীর্বাদেই তারা এসব অপকর্ম করছেন বলে জানিয়েছে ওই ব্যাংকেরই একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্রটি জানায়, সিন্ডিকেটে থাকা প্রধান কার্যালয়ের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসব ঋণের প্রস্তাব গ্রহণ এবং অনুমোদনে মুখ্য ভ‚মিকা পালন করে থাকেন। সিন্ডিকেটের তৈরি করা ভুয়া ডকুমেন্টে ঋণের প্রস্তাব খুব দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন হয়। কিন্তু কোনো গ্রাহক ঋণ চাইলে সঠিক সম্পদ মর্টগেজ বা বন্ধক দেয়ার পরও ভাগ্যে ঋণ জোটে না। এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে এমন বহু অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ঋণের নামে টাকা নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ ইউরোপ- আমেরিকার অনেক দেশে নামে-বেনামে ব্যবসা করছেন, কিনেছেন বাড়ি ও মার্কেট। এ অবস্থায় ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে পড়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বড় আমানতকারীদের গচ্ছিদ টাকা ফেরত পাওয়া। যেকোনো সময় দেউলিয়া হয়ে পড়ার ভয়ে ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র মতে, সরকারের কোনো নিয়মনীতির ধার ধারে না ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো নির্দেশনাকে তারা পাত্তা দেন না। নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। পুরো বিষয়টি প্রাইভেট ব্যাংকের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ অবহিত থাকলেও তারা রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থায় আর্থিক খাতের সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, শুধু ঋণ নিয়ে অনেক কেলেঙ্কারি হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ঘটনারই সঠিক তদন্ত করছে না। উল্টো অভিযোগকারীদের দোষারোপ করছে। নানা রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে।





ads