ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা

মানবকণ্ঠ
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১২,  আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৫৯

সদ্য বিদায়ী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে গেছে। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। মূলত গত বছরের ব্যাপক হারে পুনঃতফসিল সুবিধা দেয়ায় প্রথমবারের মতো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তুলনায় এবার সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমেছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বলে আসছেন, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না। কয়েকবারই এ কথা বলেছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। যেমন ২০১৮ সাল শেষে যেখানে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। ২০১৯ সাল শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪২০ কোটি টাকা। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো অনেক বেশি হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি: সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, ২০১৯ সালের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ভুটান ও আফগানিস্তান, যাদের খেলাপি ঋণের হার যথাক্রমে ১০ দশমিক ৯ ও ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থাই খারাপ। গত ছয় মাসে অবস্থা খারাপ হয়েছে। দেশগুলোর আর্থিক খাত এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। যে কারণে বিনিয়োগকারী ও ভোক্তাদের আস্থা কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যক্তিপর্যায়ের ভোগ ও বিনিয়োগ কমছে। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে ঝুঁকি আরো বাড়বে। ঝুঁকির মূল কারণগুলো হচ্ছে আর্থিক খাতের দুরবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংস্কারের ধীরগতি। ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্র্রতিক উত্তেজনা কমে এলেও তা যদি আবারো বাড়ে, তাহলে এই অঞ্চলের বিনিয়োগ ব্যাহত হবে।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে গেছে। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ২২ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমিয়ে ফেলেছে ব্যাংকগুলো।

তবে আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৪২০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করায় খেলাপি ঋণ কমে এসেছে। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, আগের প্রান্তিকে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৯। এ খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ছাড়ে পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সুবিধা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুতে নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়বে না বলে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ জন্য প্রথমে আন্তর্জাতিক মানের খেলাপি নীতিমালায় শিথিলতা আনা হয়। আগে ৩ মাস অনাদায়ী থাকলেই তা খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করতে হতো। এটি সংশোধন করে ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ১২ মাস করা হয়। অন্যদিকে খেলাপিদের গণছাড় দিতে বিশেষ পুনঃতফসিল নীতিমালা জারি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ২৪ শতাংশ বা ৪৩ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। আগের বছর ১ লাখ ৬২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ ছিল ৪৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। গত বছর শেষে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৪৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণকৃত ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ঋণের ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

আগের বছর খেলাপি ঋণ ছিল ৩৮ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। অনেক বছর ধরেই খাতওয়ারী হিসেবে সরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ বেশি ছিল। কিন্তু গতবছর বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত তিন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৫৯ কোটি টাকা; আগের বছর যা ছিল ৪ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...