মৃতদেহের সঙ্গে তালেবানদের যৌনাচারের অভিযোগ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৩ আগস্ট ২০২১, ১৪:৫১,  আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২১, ১৫:৪৭

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত। তালেবান কাবুলের দখল নিতেই সারা বিশ্বের মানুষ আফগানিস্তানে নারীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ক্ষমতায় আসার পরেই তালেবান জানিয়েছিল, শরীয়ৎ আইন অনুসারে নারীদের অধিকার দেয়া হবে। তবে কার্যক্ষেত্রে তালেবানের তেমন কোনো লক্ষণই দেখতে পাচ্ছে না বিশ্ব।

প্রাক্তন আফগান বিচারক নাজলা আইয়ুবি জানিয়েছেন, সম্প্রতি এক মহিলার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনার কথা শুনেছেন তিনি। রান্না খারাপ হওয়ার কারণে তালেবান যোদ্ধারা ওই মহিলার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। আইয়ুবি জানিয়েছেন, দেশের একাধিক মহিলাকেও যৌন দাসীর কাজ করতে বাধ্যও করছে তালেবান যোদ্ধারা।

আইয়ুবি দাবি করেন, 'গত কয়েক সপ্তাহে অনেক যুবতী মেয়েদেরকে কফিনে করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যৌন দাসী হিসেবে পাঠানো হয়। তিনি জানান, তালেবান আফগান পরিবারগুলোকে তাদের যুবতী মেয়েদেরকে তালিবান সদস্যদের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিতে বাধ্য করছে'।

কাবুল দখলের পর মহিলাদের অধিকার খর্ব হবে না বলেই দাবি করেছিল তালেবান। তবে এখন আফগানিস্তানে অন্যচিত্র। রোববার কাবুল থেকে ১৬৮ জনকে উদ্ধার করে আনা হয় ভারতে। এরমধ্যে ১০৭ জন ভারতীয়। বাকিরা আফগান।

নয়াদিল্লির কাছে, হিন্ডন এয়ার ফোর্স স্টেশনে নামার পর এক আফগান মহিলা বলেন, 'আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। বিপর্যয়ের ধ্বংসলীলা দেখে আঁতকে উঠছিলাম। তালেবান যোদ্ধারা আমাদের বাড়িও পুড়িয়ে দিয়েছে। তালেবান ভয়ঙ্কর। কোনো ক্রমে নিজের মেয়ে আর দুই নাতিকে নিয়ে পালিয়ে আমরা এখানে এসেছি। ভারতীয় ভাই-বোনেরা আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। আমরা আজীবন ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব'।

মুসকান নামে এক আফগান নারী পুলিশ দিল্লিতে আসার পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজকে জানান, মৃত্যুর পরও তালেবান সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই নেই মহিলাদের। তার মৃতদেহকেও ধর্ষণ করছে।

মৃতদেহের সঙ্গে যৌন মিলনের অভ্যাসকে নেক্রোফিলিয়া বলা হয় জানিয়ে ওই মহিলা পুলিশ বলেন, তালেবানরা কতটা নৃশংস হতে পারে তা নিজের চোখের সামনে দেখেছি। প্রতিটি পরিবার থেকে একজন মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় তারা। এরপর ধর্ষণ নয়তো গুলি করে খুন, এটাই রীতি।

তিনি আরও জানান, তালেবান গোষ্ঠীর হুমকিতে তার জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে তাকে চাকরি ছেড়ে, দেশ ছেড়ে পালাতে হলো। অতি সম্প্রতি দিল্লি এসে এভাবেই শেয়ার করেন নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

আফগান এই নারী আরও বলেন, ধর্ষণের সময় নারীটি জীবিত না মৃত- তাও দেখে না তালেবানরা। আর যে সব নারী সরকারের হয়ে কাজ করে তাদের পরিণতি হয় আরও ভয়াবহ।

এমনকি তালেবানের হাত থেকে পুরুষেরাও রেহাই পান না- উল্লেখ করে মুসকান আরও জানান, বিশেষ করে পরিবারের পুরুষেরা যদি কোনও না কোনও সরকারি কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে একই পরিণতি হয় তাঁদেরও।

গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে আফগানিস্তানে। দুর্ঘটনা এড়াতে কাবুল বিমানবন্দরে সাধারণের ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আফগানিস্তানের মার্কিন দূতাবাস। নির্দেশিকা জারি বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই যেন কাবুলের বাসিন্দারা ওই বিমানবন্দরে আসেন।



poisha bazar