মিয়ানমারে জঙ্গল থেকে জান্তাবিরোধী ৪০ জনের লাশ উদ্ধার


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ আগস্ট ২০২১, ১১:১১

মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে জঙ্গল থেকে ৪০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের লাশ উদ্ধার হয়েছে তারা দেশটির জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া একটি মিলিশিয়া বাহিনী এবং স্থানীয় অধিবাসী।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং মিলিশিয়া বাহিনীর এক সদস্য জানিয়েছেন, কিছু মরদেহে নির্যাতনের চিহ্নও রয়েছে। সাগাইং অঞ্চলে কানি শহরের আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে লাশগুলো পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি কয়েক মাসে এই অঞ্চলে সামরিক শাসনের বিরোধীদের গড়ে তোলা মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল লড়াই হয়েছে।

আর সেখানকার জঙ্গল থেকেই এতগুলো লাশ উদ্ধারের খবরে মূর্ত হয়ে উঠেছে মিয়ানমার জান্তা সরকারের চলমান নৃশংসতার চিত্র।

তবে বার্তা সংস্থা রয়র্টাস লাশ খুঁজে পাওয়ার দাবি নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করতে পারেনি। বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

কানি মিলিশিয়া বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেছেন, এলাকাটিতে লড়াই এখন মূলত থেমে গেছে। আরও লাশ সেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

কানি মিলিশিয়ার এই সদস্য জানান, “প্রত্যন্ত ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রামবাসীই কাছের শহরগুলোতে পালিয়ে গেছে।” মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং জান্তাপন্থি একটি মিলিশিয়া বাহিনী এলাকাটিতে প্রতিশোধমূলক হত্যাযজ্ঞ এবং লুটপাট চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত ১ ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

শক্তি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনীর বিক্ষোভ দমনাভিযান এবং রাতারাতি গড়ে ওঠা হালকা অস্ত্রসজ্জিত স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

মিয়ানমারের ইরাবতী পত্রিকা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ৩০ জুলাইয়ে সাগেইং অঞ্চলের জঙ্গল এলাকায় ১৪ বছর বয়সী একজনের মৃতদেহসহ ১২ টি লাশ পাত্তা যায়। সবগুলো মরদেহেই ছিল নির্যাতনের চিহ্ন।

এর আগে জুলাইরে শুরুর দিকে ওই এলাকারই আরেকটি গ্রামে পাওয়া গিয়েছিল ১৬ টি লাশ এবং অন্যান্য এলাকায় মিলেছিল আরও ১২ টি লাশ।

রয়টার্স গতমাসে জানিয়েছিল, অন্তত ৭ টি মরদেহ পাওয়া গেছে এবং মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো আরও লাশ খুঁজছে। এরপরই এলাকাটির বিভিন্ন স্থান থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার পাওয়া মোট লাশের সংখ্যা ৪০ বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মিলিশিয়া সদস্য।

গত ৩০ জুলাইয়ে সামরিক বাহিনীর একটি নিউজলেটারে বলা হয়েছিল, কানির একটি গ্রামের কাছে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ১০০ ‘সন্ত্রাসীর’ হামলার শিকার হয়েছে। সেনাবাহিনী সেই হামলার পাল্টা জবাবও দিয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রশস্ত্রসহ ৯ টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এনএস


poisha bazar

ads
ads