করোনার বছরে বিশ্বের ৬১০ নতুন কোটিপতির ৩১৮ জনই চীনের


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ মার্চ ২০২১, ১৭:৫২

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস। আর তা ক্রমেই বাড়তে শুরু করে ২০২০ এর শুরু থেকে। এর প্রকোপে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো বিশ্ব। বিশ্বব্যাপী শুরু হয় লকডাউন। স্থবির হয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিশ্ব অর্থনীতির চাকা।

অথচ এ বছরেও নতুন করে কোটিপতি হওয়ার সংখ্যা কম নয়। কোটিপতির সেরকম চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে কোটিপতির তালিকা প্রকাশ করা সংস্থা হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট।

সংস্থাটি জানায়, ২০২০ সালে দেশটিতে নতুন করে কোটিপতি হয়েছেন ১ হাজার ৫৪ জন। যেখানে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোটিপতি হয়েছেন ৬৯৬ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত করা গবেষণায় দেখা গেছে, গেল বছর নতুন করে সারা বিশ্বে ৬১০ জন কোটিপতি হয়েছেন, এদের মধ্যে ৩১৮ জনই চীনের। বাকি ৯৫ জন যুক্তরাষ্ট্রের।

সংস্থাটির গবেষণা বলছে, গেল বছর যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনে নতুন করে কোটিপতি হয়েছেন অনেকে।

বিশ্বের শীর্ষ দশটি শহরের মধ্যে ৬টি চীনে অবস্থিত, যেখানে কোটিপতির সংখ্যা বেশি। এরমধ্যে বেইজিংই টানা ৬ বছর ধরে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে শহরটিতে বিলিওনিয়ার আছেন ১৪৫ জন। এখন পর্যন্ত বেইজিং বিশ্বের কোটিপতিদের শহর। নিউইয়র্ক শহর আছে তৃতীয় অবস্থানে।

এদিকে গেল বছর সাংহাইতে নতুন করে ৩০ জন কোটিপতি হয়েছেন। বর্তমানে সাংহাইয়ে কোটিপতির সংখ্যা ১১৩। এরপরের অবস্থানে আছে চীনের শেনঝেন, এ শহরে কোটিপতি আছেন ১০৫ জন। হংকংয়ের অবস্থান পঞ্চমে। এ শহরে কোটিপতি আছেন ৮২।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এক বছরে সারা বিশ্বে এতো কোটিপতি কোনোসময় হতে দেখেননি তারা। তার ওপর আবার মহামারির মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা এভাবে বেড়েছে। মহামারিতে সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটে পড়লেও কোটিপতিরা আরও কোটিপতি হয়েছেন। মহামারির বছরে সারা বিশ্বে কোটিপতিদের অর্থ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার। করোনার বছরে বিশ্বের ৬৮টি দেশের ২ হাজার ৪০২টি কোম্পানির ৩ হাজার ২২৮ জন কোটিপতির অর্থ সম্পদ বেড়েছে। স্বাস্থ্যসুরক্ষা আর খুচরা বিক্রিতে বাজিমাত করেছেন কোটিপতিরা। তালিকায় ছিল বৈদ্যুতিক গাড়ি আর ই-কমার্স খাত।

যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র এক বছরে তিনজন কোটিপতি ৫ হাজার কোটি ডলারের মালিক হয়েছেন। এরমধ্যে এলন মাস্ক নিজেই ১৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের মালিক হয়েছেন। তার বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার বিক্রি বেড়েছিল গেল বছর। একই সময় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যামাজান প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস আয় করেছেন ৫ হাজার কোটি ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫ বছরে এমন কোটিপতিও পাওয়া যাবে, যারা বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের অর্থ ও সম্পদ গড়ছেন।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads
ads