মালিতে সেনা অভ্যুত্থান, সংসদ ভেঙে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ আগস্ট ২০২০, ০৯:০৫,  আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২০, ১০:২২

বিদ্রোহী সৈন্যদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর পদত্যাগ করলেন মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বুবাকার। একইসঙ্গে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে (১৮ আগস্ট) হঠাৎ করেই সেনা অভুথ্যানের মুখে গ্রেফতার হন প্রেসিডেন্ট বুবাকার ও প্রধানমন্ত্রী বোবো সিসো।

বিদ্রোহী সেনারা বন্দুকের মুখে প্রেসিডেন্ট কেইতা ও প্রধানমন্ত্রী বুবু সিসাকে রাজধানী বামাকোর নিকটবর্তী একটি সামরিক শিবিরে ধরে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বুবাকার জানান, ক্ষমতা ধরে রেখে দেশে কোনো ধরনের রক্তপাত দেখতে চান না। আর এ জন্যই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

গ্রেফাতারের পর তাকে সামরিক ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। এছাড়াও সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, দ্য কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস ইকোওয়াস ও ফ্রান্স।

প্রতক্ষদর্শীদের বরাতে কাতার-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার কাতি ঘাঁটির আশপাশে সাজোয়া ট্যাংক নিয়ে সেনাদের টহল দিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে দেশটির এক সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলছে, গোলাগুলির খবর ছাড়া অন্য কোনো তথ্য এখনো জানতে পারেনি তারা।

অন্যদিকে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, 'প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এখন আমাদের হাতে রয়েছেন। আমরা তাদের বাস ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছি।'

সেখানকার ফরাসি দূতাবাসের সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য বামাকোর উদ্দেশে রওয়ানা হন। পরিস্থিতি ভালোভাবে না বুঝে সেখানকার বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হতে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে গত কয়েক মাস ধরেই মালিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় দেশটির জঙ্গিগোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসীদের কারণে উত্তপ্ত হয় মালি। বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

এর আগে গত ১২ জুলাই মালিতে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা থামাতে সাংবিধানিক আদালত ভেঙে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাকার কেইতা। ফ্রিকার এ দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট নির্বাচনের কিছু আসনের ফল নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের দেয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিল। মালির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকায় জিহাদি গোষ্ঠীগুলো ব্যাপক সক্রিয়। এ অস্থিরতা তাদেরকে আরও সুযোগ করে দিতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত দুর্নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগে আন্দোলন করে আসছিলা সাধারণ মানুষ।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ





ads