লাদাখ সীমান্তে ট্যাংক-ক্ষেপণাস্ত্র-আর্টিলারি বহর

রণসজ্জায় ভারত-চীন

মানবকণ্ঠ
- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০২ জুলাই ২০২০, ১২:০৮

এসএম সাব্বির খান : সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে নিষ্ফল বার্তা দিয়েই শেষ হলো ভারত-চীন কোর কমান্ডার পর্যায়ের তৃতীয় দফা বৈঠক। গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাংগং লেকে অবস্থিত সেনা সমাবেশ সরাতে চীনের অস্বীকৃতি প্রদানের জেরেই অধরাই থাকল চলমান দ্বন্দ্বের সমাধান। এদিকে বেইজিংয়ের যে কোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে স্থল ও আকাশপথে প্রস্তুতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এবার জলপথেও সামরিক তৎপরতা যোগ করল দিল্লি। এরই মধ্যে নৌঘাঁটি থেকে প্যাংগং লেকের উদ্দেশে যাত্রা করেছে নৌসেনা বহর। প্যাংগং লেকে ভারতীয় সেনার টহলদারীর জন্য এক ডজন স্টেলার নজরদারি ভেসেল পাঠানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সীমান্তে মজুদ করা হয়েছে ট্যাংক, কামান ও ভারী আর্টিলারির বহর। এক কথায় দেশ দুটির পুরোদস্তুর রণসজ্জায় আরো একধাপ বেড়েছে উত্তেজনার পারদ।

ভারতীয় সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় দেশটির গণমাধ্যম।

আনন্দবাজার জানায়, প্যাংগং লেকে টহলদারির জন্য অবস্থান করছে চীনা নৌবাহিনীর ৯২৮বি ভেসেল। তার সঙ্গে সমান তালে টক্কর দিতে এই বোটগুলো পাঠানো হচ্ছে। ভারতীয় সেনাসূত্রের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির তিন বাহিনী যৌথভাবে এই ভেসেলগুলো পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সি-৭ হেভি লিফটার বোয়িং বিমানের মাধ্যমে ভেসেলগুলো লেহতে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে আকাশপথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেগুলো সমাধান করে দ্রুত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। অন্য কোনোভাবে বোটগুলো পাঠানো যায় কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন সেনা কর্তারা।

দিল্লির দাবি, গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং লেকসহ ভারত-চীন সীমান্তের সর্বত্রই চীনা বাহিনীর পাশাপাশি এবার ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অবস্থান নিশ্চিত করার জন্যই এই প্রক্রিয়া। আগে থেকে ভারত কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। কিন্তু চীনের দিক থেকে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। সেক্ষেত্রে অনাকাক্সিক্ষত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে সব দিক থেকে তার মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য চলছে জোরদার প্রস্তুতি। এরই অংশ হিসেবে প্যাংগং লেকে চীনা আগ্রাসনের জবাব দিতে এই ভেসেলগুলো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বৈঠকের সারাংশ বলতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা যেখানে চীনের সেনা সমাবেশ সরানোই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাংগং লেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে চীনা সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস মেলেনি বলেই জানিয়েছে ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর। বরং বিভিন্ন উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা, রসদ ও অস্ত্রশস্ত্র মজুদ বাড়িয়েই চলেছে বেইজিং, তৈরি করছে সেনা ছাউনির মতো নানা কাঠামোও। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সেনা সরিয়ে স্থিতাবস্থা ফেরানো এবং চীনের পক্ষ থেকে কোনো রকম আগ্রাসন হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখার কৌশলেই এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...