দক্ষিণ এশিয়ার মানুষকে সুরক্ষা দিতে অ্যামনেস্টির আহ্বান

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ মার্চ ২০২০, ১৬:০৯,  আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২০, ১৬:৪১

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দিতে জোরালো পদক্ষেপ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বুধবার (২৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ অঞ্চলের দিনমজুর, বাস্তুচ্যুত, স্বাস্থ্যকর্মী ও কারাবন্দিদের সুরক্ষার ওপর জোর দেয়। এছাড়া লকডাউন বা কারফিউ আরোপ করে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব না-ও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অনেক কারাগারে দ্বিগুণের বেশি বন্দি রয়েছে। তাদেরকে অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে। বাংলাদেশে অবস্থানরত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকেও সুরক্ষা দেয়ার কথা বলা হয় বিবৃতিতে।

পাকিস্তানে প্রায় ত্রিশ লাখ আফগান শরণার্থী ও বাংলাদেশে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের জন্য সামাজিক শিষ্টাচার (সোশ্যাল ডিসট্যান্স) মানার সুযোগ নেই, স্বাস্থ্যসেবা সহজে পাওয়া যায় না, আর দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোও কষ্টসাধ্য।

আর বলা হয়, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে সামাজিক শিষ্টাচার পালন সম্ভব না। সেখানকার কুতুপালং শিবিরের তাঁবুগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি লাগানো। সেখানে চিকিৎসা ও জরুরি সেবারও অভাব রয়েছে।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক বিবৃতিতে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ সংকটে আঞ্চলিক নেতাদের অবশ্যই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক মানুষের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। জীবিকা হারানো শ্রমিক, সংঘাতে বাড়ি হারিয়ে জনাকীর্ণ শিবিরে আশ্রয় নেয়া মানুষ, প্রয়োজনীয় উপকরণ না পাওয়া যেসব চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন, তাদের অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে।

তিনি বলেন, কাউকে ক্ষুধা বা সংক্রমণের মধ্য থেকে কোনো একটা বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়। এ সংকটের সময় তাদের জীবিকা রক্ষায় রাষ্ট্রকেই যথাসম্ভব ভূমিকা নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে এক হাজার ২৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন সাতজন। ভারতে ৬০৬ জন আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দশজন। প্রতিদিন দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার মহামারীতে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় বিবৃতিতে। এদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবের কথা বলেছেন। এ সংকটের সময় তারাই ‘নায়ক’ বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার কারাগারগুলোয় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি রয়েছে। পয়ঃনিষ্কাশনের সীমিত সুবিধার কারণে এ অঞ্চলের বন্দিরা এমনিতেই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মান অনুযায়ী বন্দিদের সেই ধরনের চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...