করোনা রোধে যেভাবে কাজ করেছেন সিঙ্গাপুরের গোয়েন্দারা

করোনা রোধে যেভাবে কাজ করেছেন সিঙ্গাপুরের গোয়েন্দারা
- ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ মার্চ ২০২০, ১৯:০৪

প্রথমদিকে যে কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, সিঙ্গাপুর তার মধ্যে একটি। সেখানে গোয়েন্দারা সম্ভাব্য ভাইরাস সংক্রমণের শিকার ব্যক্তি শনাক্ত করার চেষ্টা করছে যেন ভাইরাসের চেয়ে একধাপ এগিয়ে থাকতে পারেন তারা। তারা কীভাবে এই কাজ করছেন? বিশ্বের বাকি জায়গাগুলো কী এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে দেরি করে ফেলেছে?

জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনের গুয়াংশি শহর থেকে ২০ জন পর্যটকের একটি দল চীনা নববর্ষ উদযাপনের জন্য সিঙ্গাপুর সফর করে। দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় কয়েকটি জায়গা ভ্রমণ করে তারা। তারা চীনা প্রথাগত একটি ওষুধের দোকানও ভ্রমণ করেছিলেন যেখানে কুমিরের তেল ও বিভিন্ন ভেষজ ওষুধ বিক্রি করা হয়।

চীনের মূল ভ‚খণ্ডে পর্যটকদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় দোকান। একজন বিক্রয়কর্মী ওই দলটিকে তাদের দোকানের জিনিসপত্র দেখান। এমনকি তাদের হাতে ঔষধি তেলও মালিশ করে দেন। ওই চীনা দলটি তাদের ভ্রমণ শেষ করে চীনে ফেরত যায়, তবে ফেলে রেখে যায় অদৃশ্য কিছু জিনিস। ওই সময়ে সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছিল ১৮ জনের মধ্যে, যেগুলোর সবগুলোই চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল।

কিন্তু ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ সিঙ্গাপুরের সরকার জানায় যে, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও ভাইরাস ছড়িয়েছে, যার প্রথম গুচ্ছটি ইয়ং থাই হ্যাং চাইনিজ ওষুধের দোকানে ছিল। প্রথম দু’জন অসুস্থ হওয়া ব্যক্তি ছিলেন স্থানীয় একজন ট্যুর গাইড ও একজন বিক্রয়কর্মী। ওই একটি দোকান থেকে ৯ জন সংক্রমিত হয়, যার মধ্যে বিক্রয়কর্মীর স্বামী, তার ছয় মাস বয়সী সন্তান এবং তাদের ইন্দোনেশিয়ান গৃহকর্মী ছিলেন। ওই দোকানের আরো দু’জন কর্মীর মধ্যেও ভাইরাস ছড়ায়। তাদের সবাই এখন সুস্থ আছেন।

তবে পরিস্থিতি আরো অনেক ভয়াবহ হতে পারত যদি সিঙ্গাপুরের কার্যকর কন্টাক্ট ট্রেসিং বা সংস্পর্শের ইতিহাস নির্ণয় করার পদ্ধতি না থাকত। ভাইরাসটি একজন থেকে কীভাবে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হয় তা নির্ণয় করা, ওই ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, তাদের এবং ভাইরাস ছড়ানোর আগে তাদের সংস্পর্শে আসা সবাইকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয় এই পদ্ধতিতে।

মাউন্ট এলিজাবেথ নভেনা হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সিঙ্গাপুর সরকারের উপদেষ্টা লেয়ং হো নাম মন্তব্য করেন, আমাদের অবস্থা উহানের মতো হয়ে যেত। হাসপাতালগুলো উপচে পড়ত। ১৬ মার্চ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৪৩ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা গেছে যার মধ্যে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। সংক্রমিতদের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যাওয়ার আগেই স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয় পরীক্ষা করতে এবং নিজেদের বিচ্ছিন্ন করতে।

১৬ মার্চ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে মোট ৪ হাজার মানুষ ভাইরাস আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে এসেছিল বলে নিশ্চিত করা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশের তদন্ত এবং পুরনো ধাঁচের গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই মানুষগুলোকে শনাক্ত করা গেছে, অনেক সময়ই যার শুরু হয়েছে একটি টেলিফোনের মাধ্যমে। এক ছুটির শনিবার সিঙ্গাপুর ভিত্তিক ব্রিটিশ যোগব্যায়ামের শিক্ষক মেলিসার (আসল নাম নয়) কাছে একটি ফোন আসে, যেখান থেকে তিনি জানতে পারেন যে, তিনি ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
অচেনা একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে এই তথ্য জানানোর সময় সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে প্রশ্নও করা হয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি কি বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে বকেটি ট্যাক্সিতে ছিলেন? আমি কিছুটা ভয় পেয়ে যাই, ঠিকমতো চিন্তাও করতে পারছিলাম না।

মেলিসা জানান যে, তিনি ওই ট্যাক্সিতে ছিলেন এবং বলেন যে, ওই ট্যাক্সি ভ্রমণের সময়টা ছিল মাত্র ছয় মিনিট। তিনি আজ পর্যন্ত জানেন না যে, ওই ট্যাক্সির চালক সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি ওই ট্যাক্সির সেবা নেয়া কোনো যাত্রী সংক্রমিত হয়েছিলেন।

তিনি শুধু জানেন যে, সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা ফোন করে তাকে ঘরে কোয়ারেন্টাইন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরের দিন মেলিসা বুঝতে পারেন যে, স্বাস্থ্য বিভাগ নির্দেশনার ব্যাপারে আসলে কতটা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

পরের দিন তার বাসার সামনে জ্যাকেট ও সার্জিক্যাল মাস্ক পরে তিনজন চলে আসে। মেলিসা বলেন, সেটা অনেকটা সিনেমার মতো ছিল। তারা আমাকে একটি চুক্তিপত্র দেয়। যেটি আসলে ছিল একটি কোয়ারেন্টাইন থাকার আদেশ, যেখানে বলা ছিল যে, আপনি আপনার বাসার বাইরে যেতে পারবেন না, অন্যথায় জেল ও জরিমানা হবে। সেটি আসলে একটি আইনি নোটিশ ছিল।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...