‘মার্কিন সরকার অপরাজেয় নয় তাকেও নতজানু করা সম্ভব’

মানবকণ্ঠ
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৫২,  আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৫৯

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, মার্কিন সরকার যে অপরাজেয় নয় তা বিগত বছরগুলোতে তার নানা রেকর্ড থেকেই স্পষ্ট। তাই মার্কিন সরকারের চাপ মোকাবিলা বা তার বাধা কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব, কারো কারো এমন ধারণা বড় রকমের ভুল। তিনি তেহরানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেয়া এক সাক্ষাতে এই মন্তব্য করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন সরকার বিগত ১৫ বছরে বারবার অনেক ভুল করেছে এবং এর ফলে এ অঞ্চলে তারা নতজানু হয়েছে। এখন মার্কিন নেতারা হতাশ হয়ে গেছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে ইরাক ও আফগানিস্তানে হামলা চালানোর পর এর চোরাবালিতে আমেরিকার আটকে পড়ার কথা উল্লেখ করেন। দৃঢ়তা, যৌক্তিক প্রতিরোধ ও দূরদৃষ্টি নিয়ে কাজ করলে মার্কিন চাপের মোকাবিলায় বিজয় অনিবার্য বলে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনি মন্তব্য করেন। মার্কিন সরকার ও তার একদল আঞ্চলিক মিত্র জ্বালানি তেলকে স্বাধীন দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, অতীতে কয়েকটি মুসলিম দেশ যখন ইসরাইলকে মোকাবিলার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোতে তেল রফতানি বন্ধ করে দেয় তখন তেলের রাজনৈতিক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তীব্র হৈচৈ তোলা হয়েছিল, কিন্তু এখন সেই দেশগুলোই ওপেকের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র ও আমাদের এ অঞ্চলের কয়েকটি সরকার মার্কিন সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যদিও এতে ওই দেশ ও সরকারগুলো ক্ষতিহগ্রস্ত হচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যৌক্তিক নীতি অনুসরণ করে ও স্বাধীন দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে এইসব ষড়যন্ত্র ও শত্রুতা বানচাল করা সম্ভব। ভেনেজুয়েলাকে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন বা ন্যামের চেয়ারম্যান করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই জোট আরো সক্রিয় হোক, পশ্চিমা সরকারগুলো তা চায় না; কিন্তু স্বাধীন দেশগুলোর উচিত তাদের এই ইচ্ছার ঠিক বিপরীতে চলা এবং এভাবে অগ্রসর হলে ভবিষ্যৎ অতীতের চেয়ে অবশ্যই ভালো হবে। খামেনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে ইরানের জোর আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো মার্কিন শত্রুতার মোকাবিলায় ইরানি জাতির শক্তিশালী প্রতিরোধের প্রশংসা করে বলেছেন, ইরানিরা পরিপূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করছে, অথচ এ অঞ্চলের বহু দেশ ও ইরানের প্রতিবেশি দেশগুলো যুদ্ধ, অনৈক্য ও দুর্বলতায় ভুগছে। অর্থনৈতিক যুদ্ধসহ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের সব ধরনের শত্রুতা ও হস্তক্ষেপ সত্তে¡ও স্বাধীন এই দেশটি ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠছে বল মাদুরো উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বিশ্বে বিরাজমান বিভিন্ন সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকা এবং সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বাকু সম্মেলনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। রুহানি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাধানোর মার্কিন পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, এর ফলে কেবল উগ্র সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটেছে এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর কোটি কোটি ডলার অপচয় হয়েছে। তিনি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ন্যামের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকার স্বেচ্ছাচারী নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, রক্তপাত, সহিংসতা ও উগ্রবাদ চরম আকার ধারণ করেছে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ ছাড়া, দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ দেশ ন্যামের সদস্য। এ কারণে এ জোট বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর সমর্থনে বিশেষ করে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, ন্যাটো জোট নতুন ও বৃহৎ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বিশ্বের শান্তিকামী দেশগুলোর লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা বা সুযোগ সুবিধা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ন্যামের রয়েছে।

কিন্তু নানা কারণে ন্যাম সে সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবুল কাসেম কাসেম যাদেহ বলেছেন, পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বিভিন্ন ধরণের শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট গঠন করে আর্থ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করলেও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো যুদ্ধ ও সংঘাতে লিপ্ত এবং তারা আঞ্চলিক শক্তিশালী জোট গঠন করতে পারছে না।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...