রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে সরকারি স্থাপনা গড়ে তুলেছে মিয়ানমার


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:২৭

মিয়ানমারের রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পুলিশ ব্যারাক ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা গড়ে তুলেছে দেশটির সরকার। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সরকারের ব্যবস্থাপনায় কয়েক দিন আগে বিদেশি সাংবাদিকদের একটি দলকে উত্তর রাখাইনের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়া হয়। সেই দলে ছিলেন বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিবেদক জোনাথন হেড।

সেখান থেকে ঘুরে এসে জোনাথন হেড প্রতিবেদনে লিখেছেন, রাখাইনে বাইরের কারও ঢোকার সুযোগ নেই বললেই চলে। সামরিক প্রহরার মধ্যেসাংবাদিকদের ওই দলটিকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের অনুমতি না নিয়ে ভিডিও করার বা কারও সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ ছিল না। তবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে নির্মূল করা হয়েছে সেটা স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে তিনি আরো লিখেন, সেখানে অন্তত চারটি জায়গায় নতুন গড়ে তোলা নিরাপত্তা স্থাপনা দেখা গেছে। যেসব জায়গায় এক সময় রোহিঙ্গাদের গ্রাম থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় স্যাটেলাইট ইমেজে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা গ্রামের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জোনাথন হেড জানান, কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ে গিয়েছিল রাখাইনের হ্লা পো কং ট্রানজিট ক্যাম্পে। সেখানে ২৫ হাজার রোহিঙ্গার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য। বাংলাদেশ থেকে কেউ ফিরলে এই ক্যাম্পে তাদের দুই মাস রেখে পরে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা সরকারিভাবে বলা হচ্ছে।

“এই ক্যাম্প নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। এখন এটার অবস্থা জঘন্য। গণশৌচাগারগুলো ভেঙে পড়েছে। এই ক্যাম্প তারা গড়ে তুলেছে হ রি তু লার এবং থর জে কোন নামের দুটি গ্রামজুড়ে। ২০১৭ সালে ওই অভিযানের পার রোহিঙ্গাদের এই গ্রাম দুটো পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হয়।”

জোনাথন হেড ওই ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সো সোয়ে অংয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, গ্রাম দুটো কেন তাদের নিশ্চিহ্ন করতে হল। উত্তরে সো সোয়ে অং বলেন, কোনো গ্রাম ধ্বংস করা হয়নি। কিন্তু জোনাথন হেড স্যাটেলাইট ইমেজের কথা তুললে মিয়ানমারের ওই কর্মকর্তা বলেন, তিনি মাত্র কিছুদিন হল এই দায়িত্বে এসেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

এই ক্যাম্পের জায়গায় আগে মায়ার জিন নামে এক রোহিঙ্গা গ্রাম ছিল। বুলডোজার দিয়ে সেই গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে তারপর সেখানে বানানো হয়েছে ক্যাম্পের স্থাপনা। পাশেই বানানো হয়েছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের একটি নতুন ব্যারাক।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনের ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ বর্ণনা করে আসছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে। সেখানে গণহারে হত্যা-ধর্ষণ-জ্বালাওপোড়াওয়ের অভিযোগও মিয়ানমার অস্বীকার করে আসছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু গত মাসে প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় দফা চেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে গেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কথায় রোহিঙ্গারা আস্থা রাখতে না পারার কারণে।

মানবকণ্ঠ/এএম

 

 




Loading...
ads




Loading...