সৈয়দ শামসুল হকের আজ প্রয়াণ দিবস


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৪৪

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, চলচ্চিত্র, গান, অনুবাদসহ সাহিত্যে-সংস্কৃতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই সফল তিনি। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান। আজ তার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। বৈচিত্রময় জীবনের অধিকারী এই লেখকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে। সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও হালিমা খাতুন দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। বাবা হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের গর্বিত বাবা সৈয়দ হক। তার স্ত্রী ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক।

কুড়িগ্রামে স্কুলজীবন শেষ করেন সৈয়দ হক। এরপর মুম্বাইতে কিছুদিন চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করেন। পরবর্তীতে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে পড়ালেখা শেষ না করেই পুরোদমে লেখালেখি শুরু করেন। ‘দেয়ালের দেশ’ তার লেখা প্রথম উপন্যাস। কর্মজীবনের প্রায় সাত বছর কাটিয়েছেন লন্ডনে বিবিসি বাংলা বিভাগের সঙ্গে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে বিবিসি থেকে সংবাদ পরিবেশন করেছেন।

তার লেখকজীবন প্রায় বাষট্টি বছরের। লেখালেখির জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রাপ্তিও অনেক। স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারেও তার সংযোগও অনেক। তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— একদা এক রাজ্যে (১৯৬১), বিরতিহীন উৎসব (১৯৬৯), বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা (১৯৭০), প্রতিধ্বনিগণ (১৯৭৩), অপর পুরুষ (১৯৭৮), পরাণের গহীন ভিতর (১৯৮০), নিজস্ব বিষয় (১৯৮২), রজ্জুপথে চলেছি (১৯৮৮), বেজান শহরের জন্য কোরাস (১৯৮৯), এক আশ্চর্য সংগমের স্মৃতি (১৯৮৯), অগ্নি ও জলের কবিতা (১৯৮৯), কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে (১৯৯০), আমি জন্মগ্রহণ করিনি (১৯৯০), তোরাপের ভাই (১৯৯০), শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯০), রাজনৈতিক কবিতা (১৯৯১), নাভিমূলে ভস্মাধার, কবিতা সংগ্রহ, প্রেমের কবিতা, ধ্বংস্তূপে কবি ও নগর (২০০৯)।

কাব্যনাট্যেও রয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের অনন্য অবদান। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নুরুলদীনের সারা জীবন, এখানে এখন, গণনায়ক প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যনাট্য। ‘কোনটে বাহে জাগো সবায়’ বহুল উচ্চারিত এই সংলাপটি তার ‘নুরুলদীনের সারা জীবন’ নাটকের।

গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— তাস (১৯৫৪), শীত বিকেল (১৯৫৯), রক্তগোলাপ (১৯৬৪), আনন্দের মৃত্যু (১৯৬৭), প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান (১৯৮২), সৈয়দ শামসুল হকের প্রেমের গল্প (১৯৯০), জলেশ্বরীর গল্পগুলো (১৯৯০), শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯০)।

তার লেখা উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে— এক মহিলার ছবি (১৯৫৯), অনুপম দিন (১৯৬২), সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪), নীল দংশন (১৯৮১), স্মৃতিমেধ (১৯৮৬), মৃগয়ায় কালক্ষেপ (১৯৮৬), স্তব্ধতার অনুবাদ (১৯৮৭), এক যুবকের ছায়াপথ (১৯৮৭), স্বপ্ন সংক্রান্ত (১৯৮৯), বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ (১ম খণ্ড ১৯৮৯, ২য় খণ্ড ১৯৯০), বারো দিনের শিশু (১৯৮৯), বনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল (১৯৮৯), ত্রাহি (১৯৮৯), তুমি সেই তরবারী (১৯৮৯), কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন (১৯৮৯), শ্রেষ্ঠ উপন্যাস (১৯৯০), নিষিদ্ধ লোবান (১৯৯০), খেলা রাম খেলে যা (১৯৯১), মেঘ ও মেশিন (১৯৯১), ইহা মানুষ (১৯৯১), মহাশূন্যে পরাণ মাস্টার, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, বালিকার চন্দ্রযান প্রভৃতি।

১৯৫৯ সালে ‘মাটির পাহাড়’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা করেন সৈয়দ শামসুল হক। তারপর ‘তোমার আমার’, ‘শীত বিকেল’, ‘সুতরাং’, ‘রাজা এল শহরে’, ‘কাগজের নৌকা’, ‘কাঁচ কাটা হীরে’, ‘পুরস্কার’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বড় ভাল লোক ছিল’সহ আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেন তিনি। ‘বড় ভাল লোক ছিল’ ও ‘পুরস্কার’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

সৈয়দ শামসুল হক রচিত বেশ কিছু গান শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করেন। তার উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো— ‘এমন মজা হয় না গায়ে সোনার গয়না’, ‘এই যে আকাশ এই যে বাতাস’, ‘তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া’ প্রভৃতি।


poisha bazar