শেষ সময়ে আলোচনায় চন্দন গন্ধের বন


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৭ মার্চ ২০২২, ১৬:০১

অন্তিমে পৌঁছে গেছে এবারের অমর একুশে বইমেলা। চারদিকে বইছে বিদায়ের সুর। মেলায় তেমন ভীড় নেই। প্রকৃত ক্রেতারাই কেবল তালিকা ধরে বই কিনছেন। বুধবার ব্যতিক্রমী এক দৃশ্যের দেখা মেলে শিখা প্রকাশনীর সামনে। উপচে পড়া ভীড় ছিল সেখানে। এই ভীড় কথাসাহিত্যিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরানকে ঘিরে।

সোমবার বইমেলায় প্রকাশিত হয় ইমরানের নতুন উপন্যাস ‘চন্দন গন্ধের বন’। সেদিনও বইট ও লেখককে ঘিরে পাঠকের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। ইতোমধ্যে প্রকাশিত পাঁচটি উপন্যাস পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ায়, ইমরানের নতুন বইকে ঘিরে পাঠকের আগ্রহ ছিল। ফলে গত তিনদিনে মেলার অন্যতম বিক্রিত বই ছিল চন্দন গন্ধের বন।

বুধবার শিখার সামনে সরাক্ষাণই অটোগ্রাফ ও ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন লেখক আবদুল্লাহ আল ইমরান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির দিন ছাড়াও তরুণ লেখকদের ঘিরে পাঠকের এমন ভীড় আশাজাগানিয়া।

শিখা প্রকাশনীর প্রকাশক কাজী নাফিজুল ইসলাম বলেন, এই প্রজন্মের জনপ্রিয় লেখকদের একজন আবদুল্লাহ আল ইমরান। ধারাবাহিকভাবেই তার পাঠক সংখ্যা বেড়েছে। নতুন উপন্যাসকে ঘিরে তাই শুরু থেকেই পাঠকের কৌতুহল ছিল। মেলায় প্রতিদিনই অসংখ্য পাঠক এসে নতুন বইয়ের খোঁজ নিতেন। ফলে বইটির এমন বিক্রি প্রত্যাশীতই ছিল।

আবদুল্লাহ আল ইমরানের লেখায় সমসাময়িক বিষয় যেমন উঠে আসে, তেমনি তার বিষয়ভিত্তিক কাজও মনোযোগী পাঠকের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে, বিশেষ করে খুলনার পাটকল শ্রমিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে লেখা তার উপন্যাস কালচক্র, সব মহলে সমার্দিত হয়েছে।

নতুন উপন্যাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তরুণ এই লেখক বলেন, ‘কমসোপলিটন শহরের গল্প লিখেছি এবার। আমার উপন্যাসের নায়ক অরণ্য। অরণ্যর জীবন থেকে দুজন মানুষ নিখোঁজ হয়- একজন ছোট মামা, অন্যজন দিশা। অরণ্য তাদের খুঁজে বের করতে চায়। সে যাত্রায় আচমকা সঙ্গী হয় মেডিকেল-ছাত্রী রায়া। দৃশ্যপটে দেখা যায় শায়লা আর রাফিকে, যাদের জীবনের অন্তহীন অঘটনে জড়িয়ে যায় অরণ্যও। তারপর? দিশাকে কি শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে? মেয়েটা কি বেঁচে আছে? ছোট মামাই-বা কোথায় হারাল? জটিল সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে এগিয়ে চলে গল্প।’

আবদুল্লাহ আল ইমরান শৈশব-কৈশোরের মোহগ্রস্ততা থেকে লিখছেন দেড় যুগ। মফস্বলের সবুজ অনুভূতি বুকে নিয়ে খুলনা ছেড়ে ঢাকা এলেও ঝলমলে নাগরিক প্রলোভনে মুছে যায়নি সেই গেরুয়া অনুভূতি। যায়নি বলেই ইমরানের লেখালেখির বড় অংশজুড়ে থাকে প্রান্তিক মানুষের নিয়ত সংগ্রাম, উঠে আসে বারোয়ারি উপলব্ধিতে ঠাসা মোহান্ধ জীবনের গল্প। সেসব গল্প লিখে ইতিমধ্যেই অর্জন করেছেন ‘পূর্বপশ্চিম তরুণ লেখক সাহিত্য পুরস্কার’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতা পেশা। অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে। ভর্তি ও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় দেশের সর্ববৃহৎ প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্র চিহ্নিত করায় পেয়েছেন সিআইডির ‘আউটস্ট্যান্ডিং জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড’। বেশ কিছু আলোচিত রিপোর্ট করেছেন তিনি। সম্প্রতি পাঁচ ব্যাংকের প্রশ্নফাঁস নিয়ে অনুসন্ধান করে নন্দিত হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে।


poisha bazar


ads